শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬

শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

সবজির দামে স্বস্তি ফিরলেও তেল-চিনি-মুরগিতে বেশি

মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

মৌলভীবাজারের বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ভোজ্যতেল, চিনি, আটা-ময়দা, ডিম, মাছ ও মুরগির দাম এখনো চড়া থাকায় ক্রেতারা স্বস্তি পাচ্ছেন না। সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহ ঘাটতির কারণে যে সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল, তা এখন কমে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে নেমেছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম। কাঁচা মরিচের দামও স্বাভাবিক হয়েছে। খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং টিসি মার্কেট বাজারে  সামনে পাইকারি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে, তাই দাম কমেছে।

পেঁয়াজ ও আলুর দামে বড় পরিবর্তন নেই। মানভেদে পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ভ্যানে ৫ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা গেছে।

তেল-চিনিতে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ,বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা দিয়েছে চিনি ও ভোজ্যতেলে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনির গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

পশ্চিম বাজারের বিক্রেতা আশিক বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ডিলাররা। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। তার অভিযোগ, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি মিলগেট থেকে আগের তুলনায় সরবরাহও কমেছে। ফলে অনেক দোকানে চিনি মিলছে না। ক্রেতাদের কয়েক দোকান ঘুরে প্যাকেটজাত চিনি কিনতে হচ্ছে।

ভোজ্যতেলের বাজারেও একই অবস্থা। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০০ টাকা থাকলেও তা চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিগুলো বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

মুরগি-ডিম-ময়দায় বাড়তি চাপ; মাছ ও মুরগির বাজারও এখনো চড়া। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও কমেনি। প্রতি ডজন ১৫০ টাকা, কিছু পাড়া-মহল্লার দোকানে ১৬০ টাকা। ৪টি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

প্যাকেটজাত ময়দার দামও বেড়েছে। ১৫-২০ দিন আগে যে ময়দা ৭০ টাকা কেজি ছিল, তা এখন ৮০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে।

সবজির দাম কমায় নিম্নআয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও তেল-চিনি-মুরগির লাগামহীন দামে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। দ্রুত বাজার মনিটরিং ও সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

Link copied!