শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬

শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

চুয়াডাঙ্গার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

চুুয়াডাঙ্গা থেকে মোঃ মিনারুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

ইজিবাইক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাস-মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর ও বাস আটকে রাখার অভিযোগের জেরে চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে না পেরে অনেককে বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন।

চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের ওপর ইজিবাইক শ্রমিকদের হামলা ও মারধরের অভিযোগে জেলার সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটে সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় ও পরিবহন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইক শহরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা ওই ইজিবাইকচালককে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেন।

এ ঘটনার জেরে ওই ইজিবাইকচালক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে আলুকদিয়া এলাকায় জড়ো হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তাঁরা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসে হামলা চালান এবং তাঁদের জিম্মি করে রাখেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জিম্মি থাকা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে উদ্ধার করে।

ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকেরা দৌলতদিয়াড় এলাকায় সড়কে বাস আড়াআড়ি রেখে অবরোধ করেন। পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ কমেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনভর চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়াসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৯ আগস্ট) থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটে সব বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

হঠাৎ জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজে কিংবা নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে বাসের ওপর নির্ভরশীল মানুষকে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বাস না পেয়ে অনেকেই টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসযাত্রীরা বলেন, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় কাজে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় এসে এখন বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে।

আরাফাত হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, বাস বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের যে দাবি বা সমস্যা রয়েছে, তার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের দুর্ভোগে পড়তে না হয়।

যুবায়ের রহমান নামের এক বাসযাত্রী বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় টার্মিনালে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গিয়ে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস চলাচল করবে না।

অন্যদিকে, এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Link copied!