ছাইম ইবনে আব্বাস,এমসি কলেজ, সিলেট।
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
শুক্রবার ২৪, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
মুরারিচাঁদ কলেজ (এমসি কলেজ), সিলেটের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষ (২০২০–২০২১ শিক্ষাবর্ষ) অগ্রযাত্রা ১৭তম ব্যাচের বিদায়ী অনুষ্ঠান-২০২৬ আবেগ, আনন্দ ও স্মৃতিময় পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। চার বছরের শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা নতুন পথচলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) কলেজ ক্যাম্পাসের বিভাগের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, বর্তমান ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জন, শিক্ষকদের স্নেহ-ভালোবাসা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্তের স্মৃতিচারণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় আবেগঘন মিলনমেলায়।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ইব্রাহিম আলী মাশুদ। পরে ইসলামি সংগীত পরিবেশন করেন জাহেদ আহমদ। তাঁদের হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই সৃষ্টি করে এক মনোমুগ্ধকর আবহ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ব্যাচ প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম দিদার সিরাজী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রোমান তাওহীদ ও তাহমিনা ইসলাম শাম্মি। তাঁদের সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন সাজু, শাকিরা, শায়েখ উল্লাহ, তানজিনা চৌধুরী, মুহসিন, আজাদ, জামিয়া এবং কাওছার আহমদ। বক্তারা বিভাগের চার বছরের পথচলার বিভিন্ন স্মৃতি, শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা বন্ধনের কথা আবেগের সঙ্গে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষকরা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সততা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলে ভবিষ্যৎ জীবনে সফল হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর শাহ মোহাম্মদ জুলফাজলে। তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“তোমরা যেখানেই থাকো, বিভাগের সুনাম ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবে। মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখে আলোকিত মানুষ হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করবে।”
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সমাপনী বক্তব্য দেন ব্যাচ প্রতিনিধি ও ইসলামের ইতিহাস ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম দিদার সিরাজী। তিনি বিভাগের শিক্ষক, সহপাঠী এবং অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সহপাঠীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে আজীবন বন্ধন অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভাগের শিক্ষকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়া ফটোসেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আপ্যায়নের আয়োজন অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
বিদায়ের আবেগ আর নতুন দিনের স্বপ্নকে ধারণ করে শেষ হয় অগ্রযাত্রা ১৭তম ব্যাচের এই আয়োজন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও স্মৃতিবিজড়িত মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি হওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক স্মরণীয় অধ্যায়ে।
“আজকের বিদায়, আগামী দিনের নেতৃত্ব”—এই প্রত্যয়ে অগ্রযাত্রা ১৭তম ব্যাচ নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করে।