খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্পিতা
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
শুক্রবার ২৪, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করেন শিক্ষার্থীরা। গত ২২ জুলাই (বুধবার) রাত ৯.৪৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে এবং দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী। বিকেলে ঢাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে একাধিকবার বৈঠকে বসেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। সভাগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলসমূহের স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, আবাসিক হলগুলোর প্রভোস্ট, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক ও অন্যান্য বিভাগের পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসব সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা থেকে আজ বৃহস্পতিবারের সকল পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী মো. ইমাম হাসান ও তার স্ত্রী রুপা মণির বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩৩২৩ (৬)/১। বিকেলে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে কারাগারের প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য হল প্রশাসন ৫ (পাঁচ) সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। এ কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত কর্তৃক পরিচালিত হল ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল এবং হলের অভ্যন্তরে কর্মচারীদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া অপরাজিতা ও বিজয় ’২৪ ছাত্রী হলের ক্যান্টিন পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এবং এই দুই ছাত্রী হলের ক্যান্টিনে কোনো পুরুষ কর্মী কাজ করতে পারবেন না মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ রুবেল আনছারের যৌন হয়রানির ঘটনায় রিভিউ আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাময়িক বহিস্কৃত শিক্ষক প্রফেসর মোঃ রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি এবং যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত কমিটির দুটি তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়। সভায় দুই কমিটির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। কমিটি দুটি আগামী ০৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ডিসিপ্লিন প্রধানবৃন্দ এবং ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের দপ্তর চলতি টার্মে রেজিস্ট্রশনের সময় বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনা করেন। যার প্রেক্ষিতে আগামী ০৪-০৮-২০২৬ খ্রি, তারিখ পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এছাড়া আগামী ০৫-০৮-২০২৬ খ্রি. থেকে ১১-০৮-২০২৬ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত জরিমানাসহ রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়।