প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
কবিতার শক্তি, সাহিত্যচর্চা এবং বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে উদযাপিত হয়েছে ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে (বিশ্ব কবিতা দিবস) ২০২৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস এবং রাইটার্স ওয়েব বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে বুধবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আজম খান বলেন, তরুণ সমাজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন,“মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা যেন কখনো ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”এ সময় তিনি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার পরিবেশ ও সাহিত্য-সংস্কৃতিবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. মোফাজ্জল হোসেন, স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল হক, স্কুল অব ল-এর ডিন অধ্যাপক ড. ফারহানা হেলাল মেহতাব, রাইটার্স ওয়েব বাংলাদেশ-এর সভাপতি আব্বাস ফারুক, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গৌরাঙ্গ মহান্ত এবং সাধারণ সম্পাদক তালুকদার লাভলী।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ। বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া মহাদেশের প্রায় ১৫টি দেশের খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক সরাসরি এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। তাঁদের অংশগ্রহণ বিশ্ব কবিতা দিবসের আয়োজনকে আন্তর্জাতিক মাত্রা এনে দেয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত কবিতা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
কবিতা আবৃত্তি, সাহিত্যবিষয়ক আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ের মাধ্যমে আয়োজকরা কবিতার সার্বজনীন আবেদন, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও কবিতা মানুষের হৃদয়ের ভাষা, যা বিশ্বজুড়ে মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে।
বিশ্ব কবিতা দিবসের এই আয়োজন সাহিত্যপ্রেমী তরুণদের মধ্যে সৃজনশীল চর্চাকে আরও উৎসাহিত করবে এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
