প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলকে সামরিক হুমকি দেওয়া থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান আরাগচি। তিনি বলেন, ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তগুলো স্পষ্ট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত।
আরাগচি বলেন, ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতার আওতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেল আবিবে তার ‘পোষ্যদের’ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, 'যদি তারা (ইসরায়েল) তাদের প্রভুর নির্দেশ না মানে, তাহলে ইরানই তাদের শিক্ষা দেবে। আমাদের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।'
এর আগে সোমবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে ইসরায়েল কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে না।
যদিও কাৎজ উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে যদি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে সেটিই বেশি কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে সব ধরনের সংঘাত এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেরুজালেম এই চুক্তির অংশ নয় এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনার আগে তেহরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের দুটি সূত্র।
সূত্রগুলোর দাবি, প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করেও নিজেদের অবস্থান বাস্তবায়নে প্রস্তুত ইরান। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার আওতায় ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছিল।
তবে তেহরানের দাবি, কোন জাহাজ চলবে এবং কোন পথ ব্যবহার করবে—এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হওয়ার পরও এই নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে চায় ইরান।
সমঝোতা না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার অন্যান্য বিষয় এগিয়ে নিতে অনাগ্রহী ইরানি আলোচকরা। এমন পরিস্থিতিতে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে তেহরান। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত ঘোষণা দেয়নি দেশটি।
