প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
এবারের বিশ্বকাপকে ছোট দলের বড় গোলরক্ষকদের টুর্নামেন্ট বললে খুব বেশি ভুল হবে না। গ্রুপ পর্ব থেকেই একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন তুলনামূলক কম আলোচিত দলগুলোর গোলরক্ষকেরা।
Vozinha স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছেন, কুরাসাওয়ের Eloy Room এক ম্যাচে করেছেন ১৫টি সেভ। একইভাবে ইরানের Alireza Beiranvand বেলজিয়ামের আক্রমণ ঠেকিয়ে আলোচনায় এসেছেন।
বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে তথাকথিত ছোট দলগুলোর এই গোলরক্ষকেরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন বারবার। তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের প্রতিষ্ঠিত তারকাদের মধ্যে।
ইংল্যান্ডের Jordan Pickford, সেনেগালের Édouard Mendy, বেলজিয়ামের Thibaut Courtois কিংবা জার্মানির Manuel Neuer—বড় বড় নামের গোলরক্ষকেরা এই বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রেই সহজ শট সামলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে অস্বস্তি ও ভুল।
এই ব্যর্থতার পেছনে বয়স, চাপ কিংবা ফর্মহীনতার পাশাপাশি উঠে এসেছে আরেকটি প্রশ্ন—বিশ্বকাপের নতুন অফিসিয়াল বল ‘ত্রিওনদা’ কি গোলরক্ষকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে?
প্রতিটি বিশ্বকাপের মতো এবারও Adidas নতুন প্রযুক্তির বল তৈরি করেছে। ফিফার সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই বলটিতে উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বলের প্রতিটি স্পর্শ বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
তবে প্রযুক্তিগত এই উন্নয়নই কি গোলরক্ষকদের জন্য বিপদের কারণ? প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক Joe Hart এবং ডেনমার্কের সাবেক তারকা Kasper Schmeichel।
স্মাইকেল বলেন, ‘বলটা তৈরি করা হয়েছে মাত্র চারটি প্যানেল দিয়ে। কোনো সেলাই নেই, একসঙ্গে জোড়া দেওয়া। এই বল দিয়ে যখন ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ায় খেলা হয়, তখন বাতাসের সঙ্গে মিলে বল তেমন একটা ঘোরে না। বাতাসে একটু কম ভাসে। এক সেকেন্ডের তারতম্যও অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।’
এই বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোল হয়েছে ২৮টি, যা রেকর্ডের খুব কাছাকাছি। পাশাপাশি গোলরক্ষকের ভুলে বা বল হাতে লেগে জালে ঢুকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১২ বার।
জো হার্টও একই প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে দেখছি, গোলরক্ষকেরা সহজ শট হাতে লাগাতে পারছেন, কিন্তু থামাতে পারছেন না। এর আগে কখনো দেখেছেন গোলরক্ষকের হাতে লেগে বল জালে ঢুকে যাচ্ছে? কিছু তো একটা ঘটছে বিশ্বকাপে, যা আমরা জানি না।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রযুক্তি, বলের গতি এবং গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স নিয়ে এই বিতর্ক এখন আরও তীব্র হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ‘ত্রিওনদা’ কতটা দায়ী, তা হয়তো পরিসংখ্যানই বলবে।
