বৃহস্পতিবার ০২, জুলাই ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০২, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

গাজীপুরে একদিনে বন্ধ ৬ পোশাক কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

গাজীপুরে একদিনে ৬টি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, গ্যাস সংকট, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া ও আর্থিক লোকসানের কারণে এসব কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরণ বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২)’ শ্রমিকদের ধারাবাহিক কর্মবিরতি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়, গত ২৮ জুন শ্রমিকরা বেআইনি ধর্মঘটের মাধ্যমে কাজ বন্ধ করে কারখানায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। পরবর্তী দিনগুলোতেও শ্রমিকরা হাজিরা দিলেও কাজে যোগ দেননি। কর্তৃপক্ষের একাধিক অনুরোধের পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে গাজীপুরের বাঘের বাজারে অবস্থিত দেশের পোশাক খাতের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘লিথী গ্রুপ’-এর ৫টি কারখানাও একই দিনে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো হলো— অ্যাপারেল-২১ লিঃ, ফমকম ফ্যাশন লিঃ, ফমকম ডাইং লিঃ, ফমকম প্রিন্টিং লিঃ এবং ফমকম নিটিং লিঃ।

লিথী গ্রুপের পক্ষ থেকে দেওয়া জরুরি নোটিশে জানানো হয়, দীর্ঘদিন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকা, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, নতুন ক্রয়াদেশের অনিশ্চয়তা, শ্রম আন্দোলন, পণ্যের বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়া এবং সময়মতো ব্যাংকিং সহায়তা না পাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মুখে ছিল।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, “উপরোক্ত সংকটগুলোর কারণে কারখানাগুলো নিয়মিত বিশাল লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছিল। ক্রমাগত লোকসানের মুখে বর্তমানে মালিকপক্ষের এই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করার মতো আর কোনো আর্থিক সামর্থ্য নেই।”

তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনাদি নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে। ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং দক্ষ পুরোনো কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কারখানা বন্ধের বিষয়টি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শ্রম অধিদপ্তর, শিল্প পুলিশ, সংশ্লিষ্ট থানা ও বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে।

Link copied!