বৃহস্পতিবার ০২, জুলাই ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০২, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

এইচএসসি শুরু ২ জুলাই, পরীক্ষার্থীদের মানতেই হবে এসব নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে।পরীক্ষা চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। ইতোমধ্যে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম শিফটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সব পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে নিজ নিজ আসনে বসতে হবে।

শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) অংশ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। তারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে গত ২৯ জুন ২০২৬ ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

নকল ও অনিয়ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা

পরীক্ষা স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে শিক্ষা বোর্ডগুলো কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল নজরদারিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক নিয়োজিত থাকবেন এবং কোনো কক্ষে দুজনের কম পরিদর্শক রাখা যাবে না। বসার ব্যবস্থায়ও নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। পাঁচ ফুট বাই ছয় ফুট বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করা হবে। পরীক্ষার দিন ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের নিরাপত্তায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

  • পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকক্ষে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে।
  • প্রথমে এমসিকিউ এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ব্যবহারিক বিষয়ের ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় নির্ধারিত।
  • এমসিকিউ ও সৃজনশীল অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না; প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় পর্যন্ত পরীক্ষা একটানা চলবে।
    সকাল ১০টার পরীক্ষায় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট বিতরণ, সকাল ১০টায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ওএমআর সংগ্রহ করে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। ২৫ নম্বরের এমসিকিউ হলে এ সময় হবে সকাল ১০টা ২৫ মিনিট।
  • দুপুর ২টার পরীক্ষায় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট, দুপুর ২টায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ওএমআর সংগ্রহ করে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে। ২৫ নম্বরের এমসিকিউ হলে সময় হবে দুপুর ২টা ২৫ মিনিট।
  • প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
  • পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
  • উত্তরপত্রের ও এমআর অংশে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে বৃত্ত পূরণ করতে হবে।
  • উত্তরপত্র ভাঁজ করা বা মার্জিনের মধ্যে লেখা যাবে না।
  • তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী এবং ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
  • প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না।
  • পরীক্ষাকক্ষে শুধুমাত্র কাঁটাযুক্ত (নন-প্রোগ্রামেবল) হাতঘড়ি ব্যবহার করা যাবে।
  • শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর নিষিদ্ধ।
  • কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো পরীক্ষার্থীও পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
Link copied!