প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ০১:১৬ এএম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ ১৬ ধরনের ব্যবসায়িক খাতকে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তবে দেশজুড়ে বিস্তৃত ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসাগুলোকে কীভাবে কর ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি অর্থ মন্ত্রণালয় বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সংসদে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে ভ্যাটের আওতায় আনার জন্য বিবেচনায় থাকা খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে মুদি দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিক্সের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিক পণ্যের বিক্রেতা, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার ব্যবসা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট ও স্যানিটারি সামগ্রীর দোকান, টাইলস, ঢেউটিন, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং রেস্তোরাঁ।
রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব খাতকে প্যাকেজ ভ্যাট বা নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জটিল হিসাব সংরক্ষণ বা আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন নাও হতে পারে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সহজে ভ্যাট পরিশোধের ব্যবস্থা রাখার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। কারণ বর্তমানে প্রচলিত ভ্যাট আইনে বছরে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকে টার্নওভার কর ও ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি ও নীতিগত সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, অনানুষ্ঠানিক খাতকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তিনি বলেন, শুরুতে প্যাকেজ পদ্ধতি চালু করে ধীরে ধীরে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল নিবন্ধন ও হিসাব ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হলে রাজস্ব আহরণ এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ক্ষুদ্র মুদি দোকানে ইলেকট্রনিক হিসাব ব্যবস্থা বা নিবন্ধিত বিক্রয় রেকর্ড নেই। অনেক দোকানের ট্রেড লাইসেন্সও নেই। ফলে বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে করের আওতায় আনা হবে, তা নিয়ে এনবিআর পর্যায়ে এখনও পর্যালোচনা চলছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৭০ লাখ খুচরা বিক্রেতা রয়েছে। এ কারণে নতুন কর ব্যবস্থার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং করের হার কী হবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী মহলেও আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। ওই বাজেট প্রস্তাবেই করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
