প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ লগ-ইন নিশ্চিত করতে নতুন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা, যার নাম ‘ভাইটাল-আইডি’। পাসওয়ার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস স্ক্যানের পরিবর্তে ব্যবহারকারীর মাথার খুলির ভেতরে সৃষ্ট সূক্ষ্ম কম্পন বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করবে এই প্রযুক্তি।
বর্তমানে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগ-ইন করা দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও একাধিক পাসওয়ার্ড মনে রাখা ব্যবহারকারীদের জন্য জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতেও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে বিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতির দিকে ঝুঁকেছেন।
‘ভাইটাল-আইডি’ প্রযুক্তি মূলত শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দনের ফলে সৃষ্ট কম্পনকে শনাক্ত করে। এই কম্পন ঘাড় হয়ে মাথার খুলিতে পৌঁছায় এবং প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন হওয়ায় এটি এক ধরনের স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে কাজ করতে পারে।
নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই প্রযুক্তির উন্নয়ন হয়েছে। এটি বিশেষভাবে এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি (XR) পরিবেশে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা ভার্চ্যুয়াল জগতে বিভিন্ন সংবেদনশীল কাজ সম্পন্ন করেন।
২০২৫ সালের এসিএম কনফারেন্স অন কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস সিকিউরিটিতে প্রথমবারের মতো প্রযুক্তিটি উপস্থাপন করা হয়। গবেষকদের দাবি, এর জন্য অতিরিক্ত কোনো হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন নেই; বিদ্যমান হেডসেটের মোশন সেন্সরই যথেষ্ট।
রুটগার্স ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার প্রকৌশলী ইয়িনইয়িং চেন বলেন, ‘আমাদের কোনো অতিরিক্ত ডিভাইস বা হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন নেই। এটি চালানোর জন্য কেবল সফটওয়্যারই যথেষ্ট।’
গবেষকেরা ১০ মাস ধরে ৫২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায়, সিস্টেমটি ৯৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সঠিক ব্যবহারকারী শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে ৯৮ শতাংশের বেশি কার্যকর।
একটি বিশেষ ফিল্টারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় ধরনের শারীরিক নড়াচড়া বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সূক্ষ্ম কম্পন বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়।
এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি (XR) প্রযুক্তি ভার্চ্যুয়াল, অগমেন্টেড ও মিক্সড রিয়েলিটির সমন্বয়। গেমিংয়ের বাইরে এখন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অর্থনীতি ও দূরবর্তী কাজেও এর ব্যবহার বাড়ছে। ফলে নিরাপদ অথেনটিকেশন ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
অধ্যাপক চেন এক বিবৃতিতে বলেন, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি আমাদের ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা পালন করবে। যদি ইমারসিভ সিস্টেমগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে যায়, তবে এর নিরাপত্তাব্যবস্থা হতে হবে নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও সহজসাধ্য।
যদিও প্রযুক্তিটি এখনো বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসেনি, তবে এটি লাইসেন্সিং ও গবেষণা সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে এর প্রভিশনাল পেটেন্টের আবেদনও করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইটাল-আইডি প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে, যেখানে ব্যবহারকারীদের আর পাসওয়ার্ড মনে রাখার প্রয়োজন হবে না।
