প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ এএম
পাবলিক পরীক্ষা, চাকরি এবং শিক্ষক নিয়োগসহ সব ধরনের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত নকল প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামসুল ইসলাম।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পাবলিক পরীক্ষা, চাকরি, শিক্ষক নিয়োগসহ যে কোনো নিয়োগের পরীক্ষায় নকল হলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
তিনি জানান, চলতি বছর যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের হার শূন্য থাকবে, তাদের এমপিও বাতিল করা হবে না; তবে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে স্থায়ী সিসিটিভি স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে শুধু পরীক্ষা নয়, শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “এ বছর পরীক্ষায় যে সব বিদ্যালয়ের পাশের হার শুন্য হবে, গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে তাদের এমপিও বাতিল করা হবে না। প্রত্যেক কেন্দ্রে সিসিটিভি রাখতে হবে। এ সিসিটিভি স্থায়ী থাকবে যাতে ক্লাসের লেখা পড়া মনিটর করা যায়। কোচিং সেন্টার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইনহাউজ কোচিং চালু করার মাধ্যমে। এই ইনহাউজ কোচিংয়ে যে ছাত্র যে বিষয়ে দুর্বল সেই বিষয়ে পাঠদান করা হবে।”
সভায় তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতি গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “এ বছর পরীক্ষায় যে সব বিদ্যালয়ের পাশের হার শুন্য হবে, গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে তাদের এমপিও বাতিল করা হবে না...”
তিনি আরও বলেন, “কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে পরীক্ষা পরবর্তী খাতা মূল্যায়নেও র্যান্ডম চেকিং চালু করা হবে।”
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “জিএসটির অধীনে থাকা অবস্থায় শিক্ষকরা আরও বেশি পারিশ্রমিক নিতেন। আলাদাভাবে পরীক্ষা নিলে একজন শিক্ষককে গুচ্ছ থেকে বেশি কষ্ট করতে হয়। জিএসটি থাকা অবস্থায় ভিসিরা ৮-১০ লক্ষ টাকা নিতেন। আমাদের সাবেক ভিসি মঈন স্যার সব টাকা নিয়ে যেতে পারেন নাই; তবুও ৬-৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আলাদাভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করতে বেশি শ্রম দিতে হয়, সেই তুলনায় এটার (টাকা) রেশিও বেশি না। গুচ্ছ থাকা অবস্থায় শিক্ষকগণ আরও বেশি পারিশ্রমিক নিত।”
সভায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
