প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৮ এএম
বৈশ্বিক জ্বালানি-সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও সশরীর মিলিয়ে (ব্লেন্ডেড) ক্লাস চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সপ্তাহে ছয় দিনের ক্লাস সূচিতে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর ক্লাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এক দিন অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হলে পরদিন সশরীর উপস্থিতিতে ক্লাস নেওয়া হবে। তবে অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক বা ল্যাবভিত্তিক ক্লাসগুলো সশরীরেই নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এই প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং সেখানেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সশরীর ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।”
উল্লেখ্য, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন ছুটির কারণে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় খুলেছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে বিকল্প ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আংশিক অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর আগে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ করোনা সংক্রমণের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার সময় বিকল্প হিসেবে অনলাইন ও টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইন ও টেলিভিশনভিত্তিক পাঠদানের কার্যকারিতা সীমিত।
