প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১ এএম
দেশের দুই শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)-এ একই সময়ে অধ্যয়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দুই ক্যাম্পাসেই আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম নাজমুল হাসান সিয়াম। তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত। সেখানে তার ক্লাস রোল ৩১ এবং তিনি কবি জসিমউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
এছাড়া বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফলাফলে ‘নাজমুল হাসান’ নামে এক শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ২৪৩৬১৭ উল্লেখ রয়েছে, যার সিজিপিএ ২.৯৭ এবং তাকেও একই হলের আবাসিক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, একই ব্যক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলেও জানা গেছে। সেখানে তার ক্লাস রোল ১১৮০ এবং কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক হিসেবে অবস্থান করছেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সিজিপিএ ৩.২৯।
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে অধ্যয়ন নিয়ে জানতে চাইলে সিয়াম বলেন, “আমি কলেজ এবং মাদরাসা থেকে আলাদাভাবে দু’বার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। স্কুল থেকে ২০২২ সালে আর মাদরাসা থেকে ২০২৩ সালে। স্কুলের সার্টিফিকেট দিয়ে প্রথমবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। আর পরের বছর মাদরাসার সার্টিফিকেট দিয়ে ঢাবিতে ভর্তি হয়েছি।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা অনুযায়ী, একই সময়ে একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ক্ষেত্রে তথ্য গোপন করে ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সিয়াম বলেন, “আমি তো এখন আর ঢাবিতে পড়ছি না। আমি এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি। নিয়মিত ক্লাস করছি, পরীক্ষা দিচ্ছি, হলে থাকছি। তবে ঢাবির ভর্তি ক্যান্সেল করিনি।”
ঘটনাটি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তৈয়্যেবুর রহমান বলেন, “এমন ঘটনা প্রথম শুনলাম। এ ধরনের ঘটনা মোটেও স্বাভাবিক না। এমনকি তার ছাত্রত্ব বাতিল হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বিষয়টা আপনার থেকে ইনফরমালি জানলাম। এখন দেখি কী করা যায়। তবে ভালো হয় আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে। সেক্ষেত্রে আমাদের পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।”
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মৃধা মোহাম্মদ শিবলী নোমান জানান, বিষয়টি প্রথম নজরে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ভিন্ন দুই সনদ ব্যবহার করে ভর্তি হলে তা সহজে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, “যদি তিনি আসলেই ভিন্ন দুইটি সনদ ব্যবহার করে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তাহলে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষেই সাদা চোখে এটি বের করার সুযোগ থাকে না।”
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের শিক্ষা শাখার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
