রবিবার ০৫, এপ্রিল ২০২৬

রবিবার ০৫, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

কুবি ভর্তি পরীক্ষার আয় বণ্টন বিতর্ক, ভিসির সম্মানী ৬ লাখ

মংক্যএ মার্মা,কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১২ এএম

ফাইল ফটো

চলতি ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্রভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। তবে এই সিদ্ধান্তের পর ভর্তি পরীক্ষার আয় বণ্টনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আর্থিক নথি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘ভাগ-বাটোয়ারা’র অভিযোগ উঠেছে।

ছড়িয়ে পড়া নথি অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষার আয় থেকে উপাচার্যের জন্য ৬ লাখ টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া উপ-উপাচার্য ৫ লাখ ৫০ হাজার এবং কোষাধ্যক্ষ ৫ লাখ টাকা পাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও বিভিন্ন হারে সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি ফরম বিক্রি থেকে মোট আয় হয়েছে ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার ১৪০ টাকা। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলে জমা করা হয়েছে, যা প্রায় ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাকি ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৫ কোটি ৮১ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৪ টাকা ভর্তি পরীক্ষার পরিচালনা ও সংশ্লিষ্টদের সম্মানী বাবদ ব্যয় করা হয়েছে।

নথিতে আরও দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮৬ জন শিক্ষক প্রত্যেকে ৭৫ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটির আহ্বায়ক, সদস্য-সচিব, টেকনিক্যাল টিম এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও নির্ধারিত হারে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আর্থিক বণ্টনের এই তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রশাসনের ‘ভাগ-বাটোয়ারা’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই অর্থ ব্যবহারের দাবি তুলছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, “জিএসটির অধীনে থাকা অবস্থায় শিক্ষকরা আরও বেশি পারিশ্রমিক নিতেন। আলাদাভাবে পরীক্ষা নিলে একজন শিক্ষককে গুচ্ছ থেকে বেশি কষ্ট করতে হয়। জিএসটি থাকা অবস্থায় ভিসিরা ৮-১০ লক্ষ টাকা নিতেন। আমাদের সাবেক ভিসি মঈন স্যার সব টাকা নিয়ে যেতে পারেন নাই; তবুও ৬-৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আলাদাভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করতে বেশি শ্রম দিতে হয়, সেই তুলনায় এটার (টাকা) রেশিও বেশি না। গুচ্ছ থাকা অবস্থায় শিক্ষকগণ আরও বেশি পারিশ্রমিক নিত।”

অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সম্মানী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। কোথাও উপাচার্যরা ১ থেকে ২ লাখ টাকা পান, আবার কোথাও তা ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নথি অনুযায়ী, সেখানে উপাচার্যের সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ টাকা, উপ-উপাচার্যদের দেড় লাখ এবং কোষাধ্যক্ষের ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের মতে, সেখানে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের সম্মানী তুলনামূলকভাবে অনেক কম এবং ইউনিটভিত্তিক নির্ধারিত হয়।

ভর্তি পরীক্ষার আয় বণ্টন নিয়ে এই বিতর্কের মধ্যে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি তুলেছেন, এই অর্থের একটি অংশ আবাসন, পরিবহন ও ক্যাফেটেরিয়া খাতে ব্যয় করা উচিত।

Link copied!