তারেক পাশার সৌরভ,বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
বৃহস্পতিবার ১২, মার্চ ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা গভীর মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রয়োজন মনে করছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর আমাদের সবার। এখানে প্রতিটি গাছ, প্রতিটি স্থাপনা এবং প্রতিটি উদ্যোগের সঙ্গে আমাদের আবেগ ও দায়বদ্ধতা জড়িত।
শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে স্থায়ী ঈদগাহ ময়দান না থাকার কারণে প্রতিবছর ঈদের নামাজ আয়োজন করতে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মসজিদের সামনের গাছগুলোর জন্য সমান্তরালভাবে নামাজের জামায়াতের সারি করা সম্ভবপর হয় না। গত পবিত্র ঈদ-উল- ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার নামাজে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ মতামত দেন মসজিদের সামনের ১৫/১৬ টি গাছ কর্তন করা হলে সমান্তরালভাবে নামাজের সারি করা সম্ভবপর হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের ভিত্তিতে এবং সম্মিলিতভাবে ঈদের জামায়াতে অংশগ্রহণের একটি উপযুক্ত স্থান তৈরির উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ঈদের জামায়াত এবং অনেক সময় জানাজার নামাজের সমান্তরাল সারি করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রশাসনিক বিধি অনুসরণ করেই কিছু গাছ বিক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু যিনি টেন্ডারে গাছ ক্রয় করেছেন তিনি আজ কমিটিকে না জানিয়ে ছুটির দিনে মসজিদের সামনের ১৫/১৬ টি গাছ কর্তন করেন। গাছ কাটার বিষয়টি অবগত না করায় ইতিমধ্যেই দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বৃহত্তর স্বার্থ, শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়। এ ধরনের বিষয়ে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কিছু গাছ কাটার সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই পরিবেশের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। বরং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যতগুলো গাছ অপসারণ করা হবে, তার অন্তত দ্বিগুণ নতুন গাছ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোপণ করা হবে। পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ শুধু সুশৃংখলভাবে ধর্মীয় আয়োজনের জন্যই নয়, বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সম্মিলিত আনন্দ ও সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠবে।
শিক্ষার্থীদের আবেগ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি সবসময়ই শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং ভবিষ্যতেও দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা বিষয়টির সার্বিক প্রেক্ষাপট অনুধাবন করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কল্যাণে নেওয়া উদ্যোগগুলোর প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সবুজ, সুন্দর ও সম্প্রীতিময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে পারব এই বিশ্বাস আমাদের আছে।