প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। মামলায় অভিযুক্ত ২৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। এদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এই আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন এবং দুজন জামিনে মুক্ত আছেন। তবে অধিকাংশ আসামি এখনও পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা এবং বিভিন্ন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। যাদের মধ্যে জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ এবং সুমন মিয়া বর্তমানে কারাগারে আছেন। এছাড়া আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ এবং ওয়াজিবুল আলম জামিনে রয়েছেন। বাকি ২২ জনকে গ্রেফতারের জন্য আদালত পরোয়ানা জারি করেছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ শুরুতে তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তা জমা না দেওয়ায় আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে এক যুবককে ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটের কাছে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করেন। পরে তাকে হলের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে মোবাইল চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করা হয়। ওই যুবক নিজের নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে জানা যায়, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
ঘটনার এক পর্যায়ে তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের একটি কক্ষে জানালার সঙ্গে বেঁধে লাঠি, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে মারধর করা হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে পুলিশের তদন্তে ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও পরে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নতুন তদন্ত শেষে আরও কয়েকজনকে যুক্ত করে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
