বৃহস্পতিবার ১২, মার্চ ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১২, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

বিশ্বব্যাংক–জাপান স্কলারশিপে সুবর্ণ সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

ফাইল ফটো

বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে World Bank ও Japan–এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জাপান/বিশ্বব্যাংক স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচি। ২০২৬ সালের জন্য এই স্কলারশিপের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৪৪টি মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা।

এই বৃত্তি মূলত এমন শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা উন্নয়ন–সম্পর্কিত বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নিজেদের দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চান। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, আফ্রিকা, ওশেনিয়া এবং জাপানের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা অর্থনৈতিক নীতি ব্যবস্থাপনা, করনীতি, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন।

বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ টিউশন ফি প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মৌলিক স্বাস্থ্যবিমা, দেশভেদে নির্ধারিত মাসিক ভাতা এবং যাওয়া–আসার ইকোনমি শ্রেণির বিমানভাড়া। এছাড়া প্রতিবার ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত ৬০০ মার্কিন ডলার ভ্রমণভাতা দেওয়া হবে, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে।

তবে এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে কয়েকটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই বিশ্বব্যাংকের সদস্য কোনো উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হতে হবে এবং কোনো উন্নত দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা যাবে না। এছাড়া আবেদনকারীর স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর অন্তত তিন বছর সময় পেরিয়ে যেতে হবে এবং গত ছয় বছরের মধ্যে কমপক্ষে তিন বছর উন্নয়ন–সম্পর্কিত পূর্ণকালীন চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবেদন করার সময়ও প্রার্থীকে উন্নয়ন–সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত থাকতে হবে।

এ স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়াও কিছুটা ভিন্ন। সাধারণভাবে সবার জন্য আবেদন লিংক উন্মুক্ত থাকে না। প্রথমে নির্ধারিত প্রোগ্রামে অর্থায়ন ছাড়া ভর্তি হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শর্টলিস্ট হতে হবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের কাছে আবেদন লিংক পাঠানো হয়।

বাছাই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের চারটি প্রধান মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হবে—পেশাগত অভিজ্ঞতা, পেশাগত সুপারিশপত্র, নিজ দেশের উন্নয়নে অঙ্গীকার এবং শিক্ষাগত পটভূমি। প্রতিটি আবেদন স্বাধীনভাবে দুইজন মূল্যায়নকারী ১ থেকে ১০ স্কেলে নম্বর দেবেন।

২০২৬ সালের এই স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া দুই ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রথম ধাপ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, আর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে ৩০ মার্চ থেকে এবং চলবে ২৯ মে পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।

Link copied!