প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে বেতন-ভাতা পাওয়ার বিষয়টি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আর করণীয় নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। বিষয়টি নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের হিসাব হাতে-কলমে করতে হওয়ায় তাঁদের নতুন স্কেলে বেতন পেতে আরও সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তা আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করছে অর্থ বিভাগের কার্যক্রম ও পৃথক গেজেট প্রকাশের ওপর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র হতে জানা যায়, এমপিওভুক্ত জনবলও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। তবে সম্পূর্ণ বিষয়টি অর্থ বিভাগের হাতে। অর্থ বিভাগ যখন পৃথকভাবে গেজেট জারি করবে, তখন থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।
নতুন পে স্কেলের বকেয়া হিসাব নিয়ে সতর্কতা
নতুন পে স্কেল ২০২৬ কার্যকর হলে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মচারীদের সম্ভাব্য বকেয়া পাওনা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ হিসাবের জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক এইচটিএমএল ক্যালকুলেটর তৈরি করা হয়েছে। এতে গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্য দিলে সম্ভাব্য নতুন মূল বেতন, বাড়িভাড়া ও বিশেষ সুবিধার সমন্বয় এবং নির্ধারিত সময়ের বকেয়ার হিসাব দেখা যায়।
তবে ক্যালকুলেটরে ব্যবহৃত সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই হিসাবের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে ক্যালকুলেটরের ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য এস.আর.ও. নং ৩৪৭ আইন/২০২৬-এর মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়িভাড়া ভাতার হারও সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
এটি কোনো সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থা নয়; কেবল হিসাবের সহায়ক। চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইবাস++ ব্যবস্থার তথ্য অনুসরণ করতে হবে।
ক্যালকুলেটরে যেসব তথ্য দিতে হবে
ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে কর্মীর নাম, পদবি ও প্রতিষ্ঠান বা অফিসের নাম দেওয়া যাবে। এরপর ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কর্মরত গ্রেড এবং ওই দিনের মূল বেতন নির্বাচন করতে হবে। তালিকায় বেতনের অঙ্ক না থাকলে তা আলাদাভাবে লেখার সুযোগ রয়েছে।
এরপর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো স্কেলে প্রাপ্ত মূল বেতন দিতে হবে। কর্মস্থল নির্বাচন করে বাড়িভাড়ার হার নির্ধারণ করা যাবে; তবে তা পে স্লিপের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
প্রাথমিকভাবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া হিসাবের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় নির্বাচন করা যায়। ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির বিকল্পটি বন্ধ করতে হবে।
হিসাবের বিবরণীতে যা থাকবে
পে স্লিপে উল্লেখ করা বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাব থেকে আলাদা হলে ঐচ্ছিক ঘরে প্রকৃত অঙ্ক দেওয়া যাবে। নতুন মূল বেতন গেজেট বা আইবাস++ থেকে জানা থাকলেও সেটি ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
হিসাবের বিবরণীতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপ, প্রাপ্য ও গৃহীত মূল বেতনের পার্থক্য, বাড়িভাড়া সমন্বয় এবং বিশেষ সুবিধার হিসাব দেখানো হবে। ক্যালকুলেটরের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতন হিসেবে দেখানো হবে।
তবে ক্যালকুলেটরের ফলাফলকে চূড়ান্ত বেতন হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নির্ভুল হিসাবের জন্য মূল গেজেট, সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ এবং সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থার তথ্য যাচাই করা জরুরি।
