প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ এএম
শিক্ষাক্ষেত্র একটি দেশের জনসম্পদ তৈরির প্রধান কারখানা। এর উপর নির্ভর করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন যাবৎ তেমন কোনো যুগোপযোগী পরিকল্পনা ও পরিবর্তন নেই। অনগ্রসর শিক্ষাব্যবস্থার ফলে ব্যহত হচ্ছে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন। সংস্কারের লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাবনায় প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সংকট তুলে ধরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়ার বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান।
ক্ষয়িষ্ণু শিক্ষাব্যবস্থা ও আমাদের সংকটাপন্ন প্রজন্ম
বর্তমান যুগের গতিশীলতার বিপরীতে আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকট পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্ঞান অন্বেষণ ও গবেষণার আদিম যে আনন্দ, তা আজ হারিয়ে গেছে স্রেফ কাগজের 'সার্টিফিকেট' অর্জনের অন্ধ মোহে। শিক্ষার্থীরা আজ জানার আগ্রহে নয়, বরং ডিগ্রির মোড়কে নিজেকে সাজানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। ফলে সমাজ বঞ্চিত হচ্ছে মৌলিক আবিষ্কার, সৃজনশীল উদ্ভাবন এবং গভীর মননশীল গবেষণার সুফল থেকে।
আমাদের এই শিক্ষাদর্শন কারিগরি ও প্রায়োগিক দক্ষতাকে উপেক্ষা করে আকড়ে ধরেছে প্রাণহীন মুখস্থবিদ্যাকে, যা একজন শিক্ষার্থীর স্বাধীন চিন্তার ডানা ছেঁটে দিচ্ছে নির্মমভাবে। বাস্তব কর্মক্ষেত্রের আঙিনায় গিয়ে এই পুঁথিগত বিদ্যা তাই চরমভাবে ব্যর্থ ও অদক্ষ প্রমাণিত হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে ভৌগোলিক বৈষম্য; আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও তথ্যপ্রযুক্তির আলো থেকে বঞ্চিত মফস্বল ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতার শুরুতেই ছিটকে পড়ছে আলোকবর্ষ দূরে। একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার মূল প্রাণশক্তি হলেন শিক্ষক।
পাঠ্যক্রমকে যতই আধুনিকতার প্রলেপ দেওয়া হোক না কেন, তা শ্রেণিকক্ষে প্রাণবন্ত করার জন্য প্রয়োজন শিক্ষকের দূরদর্শী ও আধুনিক শিক্ষণ দক্ষতা । অথচ আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলো আজ স্থবির হয়ে আছে সনাতনী পাঠদানের বৃত্তে। শিক্ষকমণ্ডলীর ডিজিটাল লিটারেসি তথা আধুনিক শিক্ষাপ্রযুক্তি (যেমন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুলস, মাল্টিমিডিয়া ও গ্লোবাল অনলাইন রিসোর্স) ব্যবহারের দক্ষতার অভাবে নতুন প্রজন্ম বিশ্বমঞ্চের সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। আনন্দদায়ক ইন্টারঅ্যাক্টিভ বা 'প্রবলেম-সলভিং' পদ্ধতির পরিবর্তে প্রাচীন 'লেকচার-ভিত্তিক' একঘেয়ে ক্লাস শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী না করে উল্টো অমনোযোগী করে তুলছে।
সর্বোপরি, শিক্ষকমণ্ডলীর বৈশ্বিক গবেষণার সমসাময়িক ধারা ও কার্যকর মেন্টরশিপের অভাব তরুণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে অবতীর্ণ হওয়ার আত্মবিশ্বাস কেড়ে নিচ্ছে। এই জীর্ণ ও সনাতন শিক্ষাকাঠামো আমাদের সম্ভাবনাময় প্রজন্মকে আধুনিক পৃথিবী থেকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিচ্ছে। এখনই এই বৃত্ত ভাঙা না গেলে এক চরম মেধা-খরা ও আত্মপরিচয়হীন সংকটে পড়বে আমাদের ভবিষ্যৎ।
মোঃ আব্দুল্লাহ আল নোমান
শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
শিক্ষার খোলসে সনদ, ভেতরে জ্ঞানশূন্য
শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান হাতিয়ার। শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল কিংবা সনদ অর্জন নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ, সৃজনশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন কিছু সংকট তৈরি হয়েছে যা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জনের পথকে সংকুচিত করেছে।বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম সংকট হলো মুখস্থনির্ভরতা।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও বাস্তব জ্ঞান অর্জনের পরিবর্তে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার ওপরে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের চাহিদার অসামঞ্জস্যতা একটি বড় সংকট তৈরি করেছে। আবার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আধুনিক গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব রয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় সাফল্য শুধু পাশের হার কিংবা জিপি এর পরিসংখ্যানের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয় বলে আমি মনে করি। কেননা, প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষার্থী কতটা জ্ঞানী, দক্ষ, মানবিক ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে তার উপর। তাই মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা নয়, প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা ও মননশীলতার বিকাশ। শিক্ষার মান উন্নয়ন না হলে দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা অসম্ভব। তাই শিক্ষার্থীবান্ধব, বৈষম্যহীন ও জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
এলিনা কবির একা
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ
শিক্ষার চেয়ে সনদের গুরুত্ব বেশি
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকট হলো এটি জ্ঞানের চেয়ে সনদের ওপর বেশি জোর দেয়।শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জন, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো পরীক্ষার ফলাফল ও জিপিএ অর্জনকেই অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও চিন্তাশক্তির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার অর্জিত সনদপত্রের সাথে কর্মসংস্থানের চাহিদারও বড় ফারাক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ভাষাগত দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের মতো বাস্তবমুখী শিক্ষার অভাব প্রকট।
এছাড়া মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষিত বেকারত্ব, কারিগরি শিক্ষার প্রতি অনীহা, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত ব্যবহারিক ক্লাসের অভাব, অতিরিক্ত কোচিং নির্ভরতা, উচ্চশিক্ষায় মানসম্পন্ন গবেষণায় অপর্যাপ্ত বরাদ্দ, পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে কারিকুলাম ও শিখনপদ্ধতি নিয়মিত হালনাগাদ না করার ফলে শিক্ষাব্যবস্থা কলুষিত হচ্ছে। শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা, দক্ষ শিক্ষক এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য এবং বৈষম্য রয়েছে। আবার শহরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও আধুনিক ও বিশ্বমানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান যুগের আইটি ও আধুনিক কর্মক্ষেত্রে চাহিদার সাথে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সিলেবাসের বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে।
শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রযুক্তি দক্ষতা, নৈতিক শিক্ষা, ভাষাগত যোগ্যতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, যা বর্তমান শিক্ষাক্রমে খুবই অপ্রতুল। আমার মতে, শিক্ষাব্যবস্থাকে কেবল পরীক্ষায় উচ্চ ফলাফল লাভের হাতিয়ার না বানিয়ে আনন্দদায়ক ও প্রয়োগমুখী করতে হবে। কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় জোর দেওয়া, শিক্ষক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কারিকুলামকে বৈশ্বিক চাহিদার উপযোগী করাই এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়।
কানিজ ফাতেমা
শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার আগাগোড়া সংস্কার প্রয়োজন
জাতীয় সমৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে প্রধান চালিকাশক্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা।প্রসঙ্গানুযায়ী তাই বলা হয়ে থাকে, "পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত।" বর্তমানে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগতমান অসন্তোষজনক, ফলে নানামুখী সংকটের মুখে জর্জরিত শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি।
চলমান শিক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতাগুলোর মধ্যে রয়েছে— তাত্ত্বিক শিক্ষার দুর্বলতা, অবকাঠামোর অপ্রতুলতা, পাঠ্যপুস্তকের মানহীনতা, শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, নিম্নমানের শিক্ষণ ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া ও তাদের মধ্যে অধ্যয়নের প্রতি আগ্রহের অভাব, বই জার্নালের অভাব, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার অবলুপ্তি, শিক্ষকদের মতামতের অবমূল্যায়ন ও অপ্রতুল প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয়ের দুর্বল অবকাঠামো, বৈষম্যপূর্ণ ও বেকারত্বমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা, সেশনজট, গবেষণার সীমিত ক্ষেত্র, শিক্ষা বাণিজ্য, নকল প্রবণতা প্রভৃতি।
এ সকল সংকট থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকদের মর্যাদা ও সংখ্যাবৃদ্ধিসহ তাদের পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ, নীতি নির্ধারণে শিক্ষকদের মতামতের মূল্যায়ন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা পুনর্বহাল, তাত্ত্বিক শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন ও সার্বজনীনকরণ, অবকাঠামো ও পাঠ্যপুস্তকের মানোন্নয়ন, শিক্ষাব্যবস্থা থেকে রাজনীতি দূরীকরণ, অ্যাসাইনমেন্ট ও গ্রুপ স্টাডি ভিত্তিক শিক্ষাকে পুনর্গঠন করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটের অপব্যবহারের বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধ্যয়নের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা, শিক্ষার মান নিরীক্ষণ অত্যাবশ্যক। ইউনেস্কোর হিসাবানুযায়ী, মোট জিডিপির অন্তত ৬% শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা অত্যাবশ্যক।
তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় আরো বেশি রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দ করা অপরিহার্য। সর্বোপরি জাতীয় উন্নয়নের পথকে মসৃণ করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মতামত নিয়ে সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো একটি একীভূত শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করা, যা ব্যক্তির দক্ষতা ও চিন্তার স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।
সঞ্চিতা অধিকারী সোমা
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ
দক্ষতা ভিত্তিক জ্ঞানার্জন জরুরি
একজন শিক্ষার্থী যখন বছরের পর বছর পড়াশোনা করেও বাস্তব জীবনের সাধারণ সমস্যা সমাধানে দ্বিধায় পড়ে, কিংবা উচ্চশিক্ষা শেষ করেও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারায়, তখন প্রশ্ন জাগে—আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আসলে কী শেখাচ্ছে? শিক্ষা কি কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল ও সনদ অর্জনের মাধ্যম, নাকি যোগ্য মানুষ গড়ে তোলার পথ? একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার মনে হয়, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো অনেকাংশে মুখস্থনির্ভর ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক। অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি ভালোভাবে না বুঝেই ভালো নম্বরের আশায় উত্তর মুখস্থ করে।
ফলে সৃজনশীল চিন্তা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যথাযথভাবে বিকশিত হয় না। পাশাপাশি শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগে বৈষম্যও প্রকট। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত শিক্ষক, বিজ্ঞানাগার ও প্রযুক্তিসুবিধা থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষা শেষ করেও অনেক তরুণ প্রয়োজনীয় কম্পিউটার দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাবে চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ে।
কোচিং নির্ভরতা ও জিপিএ অর্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতাও শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে আড়াল করছে। এই সংকট উত্তরণে পরীক্ষাপদ্ধতিতে মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বিশ্লেষণ, ব্যবহারিক কাজ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকস্বল্পতা দূর করা, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং পিছিয়ে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাঠ্যক্রমে প্রযুক্তি, ভাষা ও পেশাভিত্তিক দক্ষতা যুক্ত করার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, গবেষণা ও হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়াতে হবে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে শিক্ষার বাজেটের যথাযথ ব্যবহার ও নিয়মিত তদারকিও প্রয়োজন। শিক্ষার সাফল্য শুধু পাসের হার কিংবা সনদের সংখ্যায় নয়; বরং শিক্ষার্থীরা কতটা জ্ঞানী, দক্ষ ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠছে, তার মধ্যেই নিহিত। আমাদের প্রয়োজন এমন শিক্ষাব্যবস্থা, যা শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে নয়, বাস্তব জীবনে যোগ্য হয়ে উঠতেও শেখাবে।
ওবাইদুল্লাহ্ আল মাহবুব
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
