প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
বিসিএস নিয়োগে একই প্রার্থীর বারবার একই ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার কারণে পদ শূন্য থাকার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এ সমস্যা মোকাবিলায় ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদানের প্রকৃত হিসাব পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির পরিকল্পনা করছে কমিশন। পিএসসি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিসিএস নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ‘রিপিট ক্যাডার’ বলতে এমন প্রার্থীদের বোঝানো হয়, যাঁরা আগের কোনো বিসিএসে একটি ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার পর পরবর্তী বিসিএসেও একই ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর ফলে একই প্রার্থীর একাধিকবার সুপারিশের কারণে কোনো কোনো পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। প্রার্থী নতুন সুপারিশ অনুযায়ী যোগ না দিলে সংশ্লিষ্ট পদটি শূন্য থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে মেধাক্রমে পরবর্তী অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগও প্রভাবিত হতে পারে।
৪৪তম বিসিএসে প্রায় ৪০০ রিপিট ক্যাডারের আলোচনা
বিসিএস নিয়োগে রিপিট ক্যাডার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ৪৩তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর এ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।
প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৪তম বিসিএসে ১ হাজার ৭১০টি পদের বিপরীতে সমসংখ্যক প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনকে রিপিট ক্যাডার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ, তাঁরা আগে থেকেই কোনো ক্যাডারে কর্মরত ছিলেন বা আগের বিসিএসে ক্যাডার পদে সুপারিশ পেয়েছিলেন।
এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ায় শূন্য পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রিপিট ক্যাডারের কারণে বাস্তবে খালি থাকা পদগুলোতে অপেক্ষমাণ তালিকা বা মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবিও সামনে আসে।
৪৫তম বিসিএসে যোগদানের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ
রিপিট ক্যাডার সমস্যা কমাতে আগে বিসিএসের বিধিবিধান সংশোধন করা হলেও জটিলতা পুরোপুরি দূর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শুধু সুপারিশের তালিকা নয়, প্রার্থীরা বাস্তবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন কি না, সেটিও যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।
ইতিমধ্যে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ১ নভেম্বর যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে কতজন কর্মকর্তা কাজে যোগ দেন, তা পর্যালোচনা করে প্রকৃত শূন্য পদের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
পিএসসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বরের পর যোগদানের সুনির্দিষ্ট হিসাব তদারকি করা হবে। সেই হিসাবের ভিত্তিতে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির সময় শূন্য পদগুলো বিবেচনায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বাস্তবে খালি থাকা পদে নতুন প্রার্থীদের সুপারিশ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রার্থীদের প্রত্যাশা, পিএসসির বক্তব্য
রিপিট ক্যাডার সমস্যা সমাধানে কমিশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের অনেকে। বিসিএস পরীক্ষার্থী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রিপিট ক্যাডারের কারণে আমাদের মতো সাধারণ প্রার্থীরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। একজন ব্যক্তি তথ্য গোপন করে বারবার পরীক্ষা দিয়ে একই পদ দখল করে রাখছেন, অথচ শেষ পর্যন্ত পদটি খালিই পড়ে থাকছে। ৪৫তম বিসিএসে যোগদানের সঠিক হিসাব দেখে পিএসসি যদি ৫০তম বিসিএসে প্রার্থীর সুপারিশ চূড়ান্ত করে, তবে শূন্য পদের সমস্যা অনেক কমে আসবে।’
এ বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান প্রথম আলোকে জানান, রিপিট ক্যাডার সমস্যার কারণে প্রতিবছর অসংখ্য যোগ্য প্রার্থী তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অসংগতি দূর করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ১ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের যোগদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসের ফলাফলে সেটি যুক্ত করা হবে, যাতে কোনো পদ শূন্য না থাকে এবং যোগ্য প্রার্থীরা তাঁদের অধিকার পান।
৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশে এ উদ্যোগ কীভাবে কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে ৪৫তম বিসিএসে বাস্তব যোগদানের তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পদগুলোর প্রকৃত শূন্যতা নির্ধারণের ওপর।
