সোমবার ২৮, সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার ২৮, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

মৌলভীবাজারে মন্ত্রীর সভা থেকে পালালেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

ছবি | ক্যাম্পাস রিপোর্ট

মৌলভীবাজারে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর প্রথম আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভা থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনিছুর রহমান কাউকে না জানিয়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সভায় তাঁকে খুঁজে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে ওই কর্মকর্তার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব পাওয়ার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা।

সভা সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে পরিচিতি পর্বে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা চলাকালে তাঁকে আর সভাকক্ষে পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রী যখন বিভিন্ন দপ্তরের সমস্যা শুনছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফোন করে তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করছিলেন, তখন তিনি মৌলভীবাজারের প্রাথমিক শিক্ষার পরিস্থিতি জানতে কর্মকর্তাকে খুঁজতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মন্ত্রী কয়েকবার জানতে চান, “প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কোথায়?” কর্মকর্তারা খোঁজ করেও তাঁকে সভাস্থলে পাননি।

সভায় জেলার প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক পরিস্থিতি, শিক্ষক সংকট, বিদ্যালয়ের ভবন ও শ্রেণিকক্ষের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলে এসব বিষয় মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও শিক্ষক চাহিদার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর সুযোগ ছিল বলে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান।

এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মন্ত্রী মহোদয় এখানে বসে বসে অনেক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিয়েছেন, অনেক মন্ত্রণালয়ে ফোন দিয়েছেন। শিক্ষা কর্মকর্তা থাকলে প্রাথমিকের জন্য বড় একটা বরাদ্দ আসতো। উনি নিজের দপ্তরের ক্ষতি করলেন।”

সভা থেকে কর্মকর্তার চলে যাওয়ার কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৫ জনের নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী প্রার্থীরা ওই দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তাঁরা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় ছিলেন। বিষয়টি আঁচ করে জবাবদিহিতা এড়াতেই কর্মকর্তা সভা থেকে চলে গেছেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরে ওই প্রার্থীরা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিয়োগ বাতিলের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য শুনে মন্ত্রী জেলা প্রশাসককে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেন।

সভা শেষে মন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কাছে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানের বিস্তারিত তথ্য চান। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মন্ত্রী জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে একটি সূত্রের দাবি, ৮৫ সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর বিষয়ে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে তাঁদের নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে সভা থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগ, ৮৫ প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল এবং মন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Link copied!