বুধবার ২১, অক্টোবর ২০২৬

বুধবার ২১, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

প্রবাসীদের সন্তানেরা পাবে শিক্ষাবৃত্তি : যেভাবে আবেদন

স্বর্ণক শাহী

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার জন্য আবেদন আহ্বান করেছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান এবং ২০২৫ সালের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ যোগ্য শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগামী ২৫ অক্টোবর অনলাইনে আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

কারা আবেদন করতে পারবেন
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একাদশ শ্রেণি বা সমমান কিংবা ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। একই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও এ সুযোগ পাবেন।

আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীর বাবা অথবা মাকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণকারী অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে হবে। একজন প্রবাসী কর্মীর সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিভাগভেদে প্রয়োজনীয় জিপিএ
এসএসসি ও সমমান ২০২৬ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ৫.০০, মানবিক বিভাগের ৪.৭৫ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৪.০০ থাকতে হবে। তবে প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে তিন বিভাগের জন্যই ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এইচএসসি ও সমমান ২০২৫ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ ৪.৮০ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৪.৫০ থাকতে হবে। প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে উভয় বিভাগের জন্য ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ৩.২৫ থাকতে হবে। প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের জন্য এ যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে জিপিএ ৩.০০।

আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের সঙ্গে প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টের কপি, বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদের প্রমাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট, ছবি, স্বাক্ষর এবং জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মুঠোফোন নম্বর থাকতে হবে। প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে ইস্যু করা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) জমা দিতে হবে।

শিক্ষার্থীর নিজ নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে হিসাব থাকতে হবে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাব গ্রহণযোগ্য হবে না।

কত বছর পাওয়া যাবে বৃত্তি
এসএসসি ও সমমান উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দুই বছর বৃত্তি পাবেন। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বৃত্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর।

এইচএসসি ও সমমান উত্তীর্ণদের ডিগ্রি (পাস) কোর্সে তিন বছর এবং স্নাতক পর্যায়ে চার বছর বৃত্তি দেওয়া হবে। এমবিবিএস, বিডিএস, ডিভিএম, বি.আর্ক ও অন্যান্য প্রযোজ্য কোর্সে বৃত্তির মেয়াদ পাঁচ বছর। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং উত্তীর্ণ হয়ে বিএসসি-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা চার বছর বৃত্তি পাবেন।

অনলাইনে আবেদন, শেষ সময় ২৪ নভেম্বর
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে। সরাসরি বা ডাকযোগে পাঠানো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টে থাকা নামের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সনদে উল্লেখিত বাবা বা মায়ের নামের অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। অসম্পূর্ণ আবেদন ও ভুল তথ্যসংবলিত আবেদনও বাতিল বলে গণ্য হবে।

বৃত্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে প্রবাসী কল সেন্টারের ১৬১৩৫ (দেশ থেকে, টোল ফ্রি) অথবা +৮৮০৯৬১০২০৩০৩০ (বিদেশ থেকে) নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

Link copied!