প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক নেকাব পরিহিত ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটূক্তির অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মল্লিকার জানান, নেকাব পরে ক্লাসের সামনের সারিতে বসায় শিক্ষক তাকে আপত্তি জানান। এ সময় তিনি নেকাবের কারণে ‘আনকমফোর্টেবল’ ও ‘আনসেফ’ বোধ করছেন বলে মন্তব্য করেন এবং তাকে সামনে থেকে উঠে অন্য শিক্ষার্থীদের ভিড়ের মধ্যে গিয়ে বসতে বলেন। মল্লিকা আরও জানান, এর আগেও ওই শিক্ষক তার নেকাব ও পর্দা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। এমনকি তিনি কোন ফিকহ অনুসরণ করে পর্দা করেন, সেটিও জানতে চেয়েছিলেন। পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজন হলে আলাদাভাবে মুখ দেখানো, পরিচয়পত্র প্রদর্শন কিংবা অফিস আওয়ারে সাক্ষাৎ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানান মল্লিকা। তবে শিক্ষক ওই প্রস্তাবে রাজি হননি বলে তার অভিযোগ।
ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থী রাইসা মণি সুমির জানান, পর্দা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ওই শিক্ষক বলেন, ‘ও যদি জঙ্গি হয়, ও যদি বোমা মারে, তুমি কীভাবে ওকে সাপোর্ট করতে পারো?’
এ মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান প্রতিবাদের সময় শিক্ষক নিজের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন। পরে শিক্ষার্থীরা ঘটনাটি ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যানকে জানান। অভিযোগের পর তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে সংশ্লিষ্ট ক্লাস আর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগ।
অভিযোগের বিষয়ে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতালে থাকার কথা জানিয়ে ফোনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। প্রয়োজন হলে বিভাগে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার জানান, বিভাগীয় চেয়ারম্যান তাকে ঘটনাটি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবে তখনও লিখিত কোনো অভিযোগ তার কাছে পৌঁছায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পর্দার অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেকের নিজের পছন্দ অনুযায়ী পর্দা করার অধিকার রয়েছে। কোনো শিক্ষক সত্যিই এ ধরনের মন্তব্য করে থাকলে তা উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, বিভাগ থেকে ঘটনাটি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রক্টর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনও করবেন।
