শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬

শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

সিলেটের বিয়ানীবাজারে তৌহিদি জনতার আপত্তির মধ্যেই সোনাই নদে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত। 

ছাইম ইবনে আব্বাস,এমসি কলেজ, সিলেট।

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৫ এএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

স্থানীয় একটি পক্ষের আপত্তির মধ্যেই সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে নৌকাবাইচ। শুক্রবার বিকেলে লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। তবে আলো কমে যাওয়ায় ফাইনাল শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিযোগিতার বিজয়ীও নির্ধারণ করা যায়নি।

শুক্রবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে সোনাই নদের তৃগাংগারমুখ এলাকায় নৌকাবাইচ শুরু হয়। লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় তিনটি নৌকা। এগুলো হলো গোলাপগঞ্জের কালীজুরি এলাকার ‘পাগলা নাও’, হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ এবং বড়লেখার ঘোড়াকান্দির ‘স্বাধীন বাংলা নাও’।

প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই নদীর দুই তীরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। নির্ধারিত সময়ে সংকেত দেওয়ার পর প্রতিযোগী নৌকাগুলো নদে ছুটে চলে। মাঝিদের ছন্দবদ্ধ বৈঠার টানে নৌকাগুলো এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শিশু, নারী ও পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। অনেকে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

নৌকাবাইচ চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোনাই নদে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে করে পুলিশ সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়।

আয়োজকেরা জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে সোনাই নদে নৌকাবাইচের আয়োজন হয়ে আসছে। এবারও আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় একটি পক্ষ আপত্তি জানায়। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার পর নৌকাবাইচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি বড় আকারের গরু এবং দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি রেফ্রিজারেটর রাখা হয়েছে। তবে ফাইনাল অসম্পূর্ণ থাকায় শুক্রবার পুরস্কার দেওয়া হয়নি। আয়োজকেরা জানান, পরে বৈঠক করে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। এ ধরনের নৌকাবাইচ ধর্মবিরোধী কোনো কাজ নয়। প্রতিবছর ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন ও উপভোগ করা হবে।’

আয়োজকদের একজন তাজউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সোনাই নদে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। এবারও স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। শুরুতে স্থানীয় কয়েকজন আপত্তি জানালেও পরে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। অন্ধকার নেমে আসায় ফাইনালের ফল ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।

Link copied!