শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬

শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

নবীনদের বরণ করে নিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাবি থেকে মো.রেজওয়ান

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের ফুল ও শিক্ষা-সামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।

নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী শুক্রিয়া তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক কষ্ট, পরিশ্রম ও ত্যাগের পর ৭৫৩ একরের এই ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। এজন্য সর্বপ্রথম সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি আমার বাবা-মায়ের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ ও সহযোগিতায় আজ আমি এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি।

‘আমরা নবীন শিক্ষার্থীরা প্রাচ্যের ক্যামব্রিজখ্যাত এই মতিহারের সবুজ চত্বরের ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাসকে ধারণ ও সংরক্ষণ করে নিজেদের একজন আদর্শ ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চশিক্ষার জগতে নবীন শিক্ষার্থীদের আমি স্বাগত জানাই। তোমরা দুই লক্ষাধিক প্রতিযোগীর মধ্য থেকে এখানে পড়ার সুযোগ পেয়েছ। সামনের দিনগুলোতে নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস রেখে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।’

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তোমাদের অবশ্যই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, এই স্বাধীনতা অবাধ নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তোমাদের পরিবারের মতো। তাই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও নমনীয় আচরণ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করার বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে চিন্তা করেছি। আমরা চাই, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেশের সেরা ও যোগ্য মানুষ তৈরি হোক।’

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘যারা আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা, তারাই আজ আমাদের ক্যাম্পাসে এসেছেন। আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। আপনারা যেখানেই যাবেন, সেখানেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আপনাদের সাফল্যের প্রত্যাশা রয়েছে আপনাদের বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, সমাজ এবং আমাদেরও। সুতরাং আপনারা সব সময় সঠিক পথে চলবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলোর সমাধান না করে আমি যদি দায়িত্ব শেষ করি, তাহলে দ্বিতীয়বার আপনাদের সামনে আসব না। ইনশাআল্লাহ, এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।’

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা সর্বপ্রথম যেকোনো ধরনের মাদককে না বলবে এবং অসৎ সঙ্গ পরিহার করবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা অনলাইন ব্যাংকিং-সংক্রান্ত কোনো তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবে না। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত কারও সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলবে না।’

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আরও বলেন, ‘আমার শিক্ষার্থীদের পেটে পর্যাপ্ত খাওয়াদাওয়া দেওয়ার জন্য সরকারি কোনো ধরনের সহযোগিতার সুযোগ আছে কি না, বিষয়টি আপনারা বিবেচনায় রাখবেন।’

অনুষ্ঠানে এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা এ এইচ এম খুরশীদ আলম, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অনুষদের অধিকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য, এ শিক্ষাবর্ষে ৪৩০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন।

Link copied!