প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ এএম
বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সংকট মোকাবিলায় সরকারের সামনে চারটি প্রস্তাবও তুলে ধরেছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহন করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’
হাসনাতের দেওয়া প্রথম প্রস্তাবে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলের আগের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাসহ ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।
হাসনাত জানান, এসব প্রস্তাবে স্বল্পমেয়াদি ৩০ দিনের পরিকল্পনা, মধ্যমেয়াদি ৬ থেকে ১৮ মাসের কর্মপরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ভর্তুকি নীতি, জ্বালানি পরিকল্পনা, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিভিন্ন সুপারিশ দিয়েছেন।
নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে দেওয়া প্রস্তাব জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সেমিনারেও এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেন হাসনাত।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে সরকারের বড় টিমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের নিয়ে গঠিত এই টিমের সামনে এনসিপির দেওয়া বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার আহ্বান জানান হাসনাত। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির প্রস্তাবে ৩০ দিনের জন্য পাঁচটি, মধ্যমেয়াদে ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে চারটি সমাধানের কথা বলা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলের অনুরোধে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের দাবিও জানান এনসিপির এই নেতা।
হাসনাতের তৃতীয় প্রস্তাবে প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে প্রশাসনে ব্যাপক দলীয় পদায়নের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বা ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ নষ্ট হয়েছে।
এর ফলে সরকারের জ্বালানি, কন্টিনজেন্সি ও ডিজাস্টার রিকভারি পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করেন হাসনাত। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ বহাল রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মহেশখালীর এফএসআরইউতে আগুন লাগার ঘটনাতেও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তাঁর প্রশ্ন, ওই ঘটনার আগে রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি কেন। ঘটনাটি নাশকতা নাকি অবহেলার কারণে ঘটেছে, সরকার নিজেই তা নিশ্চিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চতুর্থ প্রস্তাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫ বাস্তবায়নের দাবি জানান হাসনাত।
তিনি বলেন, এই নীতির আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে দাম নির্ধারণ করবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকবে। উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাতের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু করতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। শুধু সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএলএ) এবং হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করলেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হাসনাত বলেন, ‘আপনি বলার আগেই আমরা সমাধান দিয়েছি। আপনারা সেটা পড়ার দরকার মনে করেননি কিংবা আপনার কাছে পৌঁছানো হয়নি। তথাপি, ছয় মাসের হিসাবটা আমরা মেনে নিলাম। কিন্তু ঘড়িটা বিরোধী দলের নয়, আপনার সরকারের। মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে যদি ছয় মাসের বেশি লাগে, সেটি আর নীতির প্রশ্ন থাকবে না, সেটি হবে সক্ষমতার ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি।’
সরকারের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তাঁর মতে, একটি কার্যকর গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে আলটিমেটাম না দিয়ে সরকারের কাজের জবাবদিহি করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রমাণিতভাবে ব্যর্থ মন্ত্রীও অযোগ্য লোক দিয়ে কৌশলগত খাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলে না। এটা হচ্ছে আই হ্যাভ নো প্ল্যান এর টেস্টিং। একটি প্র্যাক্টিসিং ডেমোক্রেসিতে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলকে আল্টিমেটাম কিংবা চ্যালেঞ্জ দেয়না বরং সরকারই তার কাজের জবাবদিহি করে।এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল জবাবদিহি করা যে, সরকার ছয় মাস ক্ষমতায়, আর দেশ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ে কেন পড়লো! এই রাষ্ট্র কেনো অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো? সমাধান আমাদের হাতে আছে। কিন্তু ক্ষমতা আপনার হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে, দুটোর মধ্যে কোনটির অভাবে দেশ অন্ধকারে ছিল।’
