খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্পিতা
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
রবিবার ১৬, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর ও নিয়মিত সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ তৈরি হলে নতুন ধারণা, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।
শনিবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (ইউআরপি) থিয়েটারে ‘ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রি কলাবোরেশন: এন্ট্রাপ্রেনারশিপ, ইনোভেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব গবেষণা, জ্ঞান ও উদ্ভাবন তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে শিল্পখাতের একটি ‘শেয়ারিং উইন্ডো’ তৈরি করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ধারণা, অর্থায়ন ও দক্ষতার পারস্পরিক বিনিময় ঘটবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যকার দূরত্ব কমার পাশাপাশি নতুন নতুন স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গড়ে উঠবে।
তিনি স্থানীয় শিল্পখাতের অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আমন্ত্রণ জানানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, তাঁদের একাডেমিক যোগ্যতা যাই হোক না কেন, নিজ নিজ ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিতভাবে শিল্পখাতের সফল ব্যক্তিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ তৈরি হলে কর্মসংস্থানের সুযোগও স্বাভাবিকভাবে তৈরি হবে।
ইউজিসি সদস্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থানীয় শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আমন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজেরাই উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য সরকারি বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনোভেশন সেন্টার গড়ে তোলা এবং স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনে অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও বিষয়সমূহকে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কোন কোন দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে একাডেমিক-ইন্ডাস্ট্রি কলাবোরেশনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
আয়োজকেরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাতের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা তৈরি, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে।