রবিবার ১৬, আগস্ট ২০২৬

রবিবার ১৬, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম নোবিপ্রবি’র ছাত্রদল কর্মী মেহেদী

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

ফাইল ফটো

সুমন চন্দ্র ভৌমিক, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেই একাডেমিক সাফল্য বাধাগ্রস্ত হয়–সে ধারণাকে নিজের ফলাফলের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন্না। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষায় বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

 
সদ্য প্রকাশিত ফলাফলে সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৩.৮৮ সিজিপিএ অর্জন করেছে মেহেদী। একই সঙ্গে কৃষি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে নিজের মেধা ও একাডেমিক অধ্যবসায়ে স্বাক্ষর রেখেছেন।
 
মেহেদীর এই সাফল্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ছাত্রদলের কর্মীরা। তারা জানান, শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে অনেক সময় তার মেধা, যোগ্যতা কিংবা একাডেমিক সাফল্যের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেখা হয়। সময় ব্যবস্থাপনা, অধ্যবসায়, নিয়মিত পড়াশোনা এবং নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন থাকলে একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি সহশিক্ষা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থাকা সম্ভব। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মেহেদী। 
 
তার সহপাঠীরা জানান, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একদিকে যেমন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, অন্যদিকে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ছিলেন মনোযোগী। পরীক্ষার প্রস্তুতি, একাডেমিক কাজ এবং বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ছিল নিয়মিত। তার এ ফলাফল সহপাঠীদের কাছেও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।
 
এ বিষয়ে মেহেদী হাসান বলেন, “ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে মনে-প্রাণে ধারণ করেছি। নোবিপ্রবি ছাত্রদল কখনো ক্লাস বা পরীক্ষা বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাপ দেয়নি। বরং কোন কোর্স কীভাবে পড়তে হবে, সে বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি থেকেও পরামর্শ পেয়েছি। যার ফলে সক্রিয় রাজনীতি করার পরও ক্লাসে উপস্থিতি ছিল শতভাগ। আমার রাজনৈতিক আদর্শ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার আদর্শিক মনোভাব বজায় রেখে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চাই।”
 
স্কুলজীবনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ক্লাস টেনে পড়ার সময় পুরো স্কুলে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন হয়। বিপুল ভোটে আমি জয়লাভ করি। সেসময় ছাত্রলীগের ছেলেরা আমাকে সেই পদ থেকে সরানোর জন্য বারবার শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছে। কুমিল্লা পলিটেকনিকের তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতির হুমকিরও শিকার হয়েছি। অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করিনি। নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সফলতার সঙ্গে তখন এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলাম।”
 
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদল করলেই কারও ক্যারিয়ার নষ্ট হয় না। বরং এখানে ভালো ফলাফল করার পাশাপাশি নেতৃত্বগুণ তৈরি করার জন্য অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।”
 
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন,  “নোবিপ্রবি ছাত্রদল সবসময় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। ছাত্রদলের একনিষ্ঠ কর্মী মেহেদী হাসান মুন্না তার বিভাগে স্নাতক চুড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে। এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মেধাবীদের উৎসাহিত করে তাদের সমন্বয়েই ছাত্রদল এগিয়ে যাবে।”

Link copied!