সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬

সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

সিলেটে ১৪ মাস পর আবারও করোনা শনাক্ত

ছাইম ইবনে আব্বাস,এমসি কলেজ, সিলেট।

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

হাম-ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে নতুন উদ্বেগ, শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশনে ৫৫ বছরের রোগী।হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে যখন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে সিলেট, ঠিক সেই সময়ে দীর্ঘ ১৪ মাস পর আবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর তাকে সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তি হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি ছিলেন। সেখানে এনজিওগ্রাম করার আগে নিয়ম অনুযায়ী তার অ্যান্টিজেন র‍্যাপিড টেস্ট (আরএটি) করা হয়। পরীক্ষায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়লে তাকে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাকে হাসপাতালের একটি কেবিনে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ১৫ জুন সিলেটে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পর নতুন করে একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

করোনার নতুন সংক্রমণের পাশাপাশি সিলেটে চলমান রয়েছে হামের প্রকোপ। গত কয়েকদিনে হাম শনাক্তের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু সংক্রমণ।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের শনিবারের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সিলেটে এ পর্যন্ত ৮০৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১২২ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে ২১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রয়েছে ১০০টি শয্যা। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ভর্তি ছিলেন ১৩৫ জন রোগী। অর্থাৎ নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা ৩৫ জন বেশি। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হাসপাতালটিতেই নতুন করোনা রোগীকে আইসোলেশনে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, একই স্থাপনায় একাধিক সংক্রামক রোগের রোগী চিকিৎসাধীন থাকলে যথাযথ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিকে আলাদা কেবিনে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

সিলেটে করোনা ও হামের পাশাপাশি ডেঙ্গু পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। শনিবার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সিলেটে ১২১ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ রোগে একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। ফলে একই সময়ে সিলেটে হাম, ডেঙ্গু এবং করোনাভাইরাস-তিন ধরনের সংক্রমণ নিয়ে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জনসমাগম এড়িয়ে চলা, প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীরে র‌্যাশ বা অন্যান্য সংক্রমণজনিত উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সিলেটে একই সময়ে একাধিক সংক্রামক রোগের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।

Link copied!