মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
নাগরিক, কিন্তু নাগরিকত্বের স্বাদ নেই। বাসিন্দা, কিন্তু ভূমির অধিকার নেই। ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে ফের একবার নিজেদের অস্তিত্বের স্বীকৃতি চেয়ে রাস্তায় নেমেছেন কমলগঞ্জের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো।
শত শত বছর ধরে এই মাটিতে বসবাস করেও তারা আজও উপজাতি তকমায় বন্দি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা, ভূমির অধিকার, শিক্ষা-চিকিৎসা সবকিছু থেকে বঞ্চিত লাখো মানুষ।
বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাহাড় ও সমতলে ৫০টির বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শত শত বছর ধরে বসবাস করছে।
শুধু মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জেই রয়েছেন মণিপুরী, খাসিয়া, ত্রিপুরা, গারো, ওঁরাওসহ ২১টির বেশি সম্প্রদায়ের প্রায় ২ লাখ মানুষ। কিন্তু নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে বসবাস করলেও তারা *সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
সবচেয়ে বড় সংকট, ভূমির অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পাহাড় ও টিলায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।আদিবাসী পুঞ্জিগুলোতে সরকারি বিদ্যালয় নেই। ফলে শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত।বেশির ভাগ খাসিয়াপাড়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট। চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভঙ্গুর।অনেক পুঞ্জিতে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, চা-শ্রমিকসহ সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী শিক্ষা, চিকিৎসা, ভূমির অধিকার ও মজুরি বৈষম্যের শিকার। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বাড়াতে হবে।
চা-শ্রমিক সন্তান দিনেশ বাউরি বলেন, এই সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম চা জনগোষ্ঠী। কাগজে-কলমে বাংলাদেশি নাগরিক হলেও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। কর্মসংস্থানের অভাবে হাজার হাজার চা-শ্রমিক বেকারত্ব নিয়ে ঘুরছেন।
বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের কো-চেয়ারপারসন ও মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান জিডিসন প্রধান সুচিয়াং বলেন,
আমরা দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলা হয়। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, আমাদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক ও সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হোক।
খাসিয়া সম্প্রদায়ের সাজু মারচিয়াং বলেন, শত বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করলেও এখনো ভূমির অধিকার নিশ্চিত হয়নি। বেশির ভাগ মানুষ পাহাড়ে পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
বাপা জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, আদিবাসীরা দেশের নাগরিক। তাদের অবশ্যই ভূমির অধিকার দেওয়া প্রয়োজন। শুধু ভূমি নয়, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত। শত শত বছর ধরে তারা বসবাস করছেন অথচ আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি মেলেনি।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানভীর হোসেন বলেন, আদিবাসীরা আমাদের কাছে কোনো দাবি জানায়নি। তারা যদি দাবি জানায়, তাহলে তা সরকারের কাছে পৌঁছে দেব।