মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
রবিবার ০৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে দেশের মস্ত বড় আলেম বানাবেন। বানাবেন নামকরা মুফতি ও মাওলানা। সেই উদ্দেশ্যেই কোরআনের হাফেজ সম্পন্ন করা ১৬ বছরের তরুণ মুহাম্মদ আরমান হুসাইনকে ভর্তি করা হয়েছিল ঢাকার একটি স্বনামধন্য মাদরাসায়।
কিন্তু ঘাতক বাসের এক মুহূর্তের সংঘর্ষেই থেমে গেল সব। অকালে স্তব্ধ হয়ে গেল একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। আর কোনোদিন শোনা যাবে না আরমানের সেই সুরেলা কণ্ঠের তিলাওয়াত।
গতকাল শুক্রবার, ৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার সকালে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের' একটি বাসে চড়ে বসেছিলেন হাফেজ আরমান।
কাশিকাপন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের' একটি বাসের সঙ্গে ইউনিক পরিবহনের বাসটির মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের বিকট শব্দে থমকে যায় আশপাশের এলাকা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউনিকের বাসটি পাশের খাদে পড়ে যায়।
এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন যাত্রী নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায় আরও ২ জন। মারাত্মকভাবে আহত হয়ে প্রাণ হারানদের মধ্যেই ছিলেন কোরআনের এই পাখি আরমান। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আরমানের পিতা রফিকুল ইসলাম। সন্তান হারানোর খবরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
শোকের সাগরে ভেসে বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, আমি আমার ছেলেকে বলতাম— তোর জন্ম শুক্রবারে, মৃত্যু হলেও যেন শুক্রবারেই হয়। আরও বলতাম, বাবা, শুক্রবারে বেশি বেশি নবীজির ওপর দুরুদ পড়বি। আমি আমার ছেলেকে হাফেজ, মাওলানা ও মুফতি বানাতে চেয়েছিলাম। ঢাকায় পড়াশোনা করাচ্ছিলাম। আল্লাহর কাছে এমনই নিয়ত করেছিলাম।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেকে শান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করে বাবা আরও বলেন,
আল্লাহ নিয়ে গেছেন, আল্লাহ নিয়ে গেছেন। আমার ছেলে কোরআন তেলাওয়াত করত, আল্লাহ আল্লাহ করত। ইনশাআল্লাহ, আমার ছেলে নবীর দরবারের পথে রওনা হয়েছে। ছেলে আর নেই, ছেলে আর নেই... দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে।
কোরআনের এক তরুণ হাফেজের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আরমানের পরিবার ও নিজ এলাকায় শোকের মাতম চলছে। যে বয়সে সহপাঠীদের সঙ্গে পড়ালেখা ও দ্বীনি এলেম অর্জনে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল, সেই বয়সে লাশ হয়ে ফিরতে হলো আরমানকে।
এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন। সবাই পরম করুণাময়ের দরবারে প্রার্থনা করছেন, আল্লাহ যেন এই কোরআনের হাফেজকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করেন এবং তাঁর বাবা-মাসহ পুরো পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।