সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬

সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

গোবিপ্রবিতে হল শিক্ষার্থীদের জন্য ফিস্ট মিলের আয়োজন,ক্ষোভ মেস শিক্ষার্থীদের

আব্দুল্লাহ আর রাফি,গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০০ এএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের জন্য ফিস্ট মিলের আয়োজনকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা। হল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও মেস শিক্ষার্থীদের এ আয়োজনের আওতায় না রাখায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মেস শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী হলের বাইরে মেসে থেকে পড়াশোনা করছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এমন কর্মসূচিতে মেস শিক্ষার্থীদেরও সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।

তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এ ধরনের আয়োজন করা হলে বৈষম্যের অভিযোগ উঠবে না এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা বজায় থাকবে। আবাসিক হলের বাইরে যেসব শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে তাদের জন্য কেন ফিস্ট মিল আয়োজন করা হবে না?  এমন নানা প্রশ্নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অনাবাসিক মেস শিক্ষার্থীদের দাবি তাদেরও এমন আয়োজনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে  ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩ -২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, একজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী হলের সিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে নিজের খরচে মেস বা বাসায় থাকেন। ফলে হলের আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তাকে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয়ও বহন করতে হয়। এর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফিস্ট ও আয়োজনে যদি শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়, তাহলে তা স্পষ্টতই বৈষম্য সৃষ্টি করে। 

তিনি আরও বলেন, বিগত অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ অর্থও যথাযথভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ থাকার পরও দায়িত্বশীলদের ব্যর্থতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন বৈষম্য তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশাসন সঠিক উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করলে এ বৈষম্য দূর করা সম্ভব। আশা করি, ভবিষ্যতের ফিস্ট ও অন্যান্য আয়োজনে আবাসিক-অনাবাসিক উভয় শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ -সুবিধা ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত বলেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ পেয়েছি।  সব হল প্রভোস্টের সাথে পরামর্শ করেই পূর্বের ন্যায় এবারও একই রকম আয়োজন করা হয়েছে। আর আগামি কোনো প্রোগ্রাম যদি এমন হয় তাহলে সবার জন্য  আয়োজন হবে কিনা তা নির্ভর করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অবস্থার দিকে বিবেচনা করে।

Link copied!