প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। একদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নিজেদের ‘ভুক্তভোগী’ দাবি করে ঘটনাকে ‘প্রতিরোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, প্রক্টর দপ্তরে আনাসকে আটকের দাবি জানানো হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে রাকসু ভবনে গেলে কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তার ভাষ্য, হামলার উদ্দেশ্য ছিল শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয় করা।
রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আনাস ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে অভিযুক্ত। একই সঙ্গে হামলায় অংশ নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও তারা ব্যবস্থা চেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি ‘হামলা’ নয়, বরং ‘প্রতিরোধ’ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে,নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, রাকসু ভবনে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার, দায়িত্বে অবহেলার তদন্ত, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অতীতে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার।
এ সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনের সমালোচনা করে রাকসুর ভিপি অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের ঘটনাকে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি সংবাদ প্রকাশে ব্যবহৃত শব্দচয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, প্রক্টর দপ্তরে আনাসকে ডেকে এনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় দেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বির। পরে আনাস ও তার সঙ্গীরা রাকসু ভবনে গেলে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আশ্রয় নেওয়া তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও তাদের নামিয়ে আবার মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর রাতে পুলিশ জানায়, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সোমবার রাতেই প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
