বুধবার ২৯, জুলাই ২০২৬

বুধবার ২৯, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

ইবিতে ভর্তি জালিয়াতি নিয়ে কমিটি,তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার শঙ্কা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাওহিদ ইসলাম

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

ফাইল ফটো

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগে ভর্তি জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। 

এ ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত কর্মদিবসে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত সোমবার (২৭ জুলাই) এ কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির অন্তর্ভুক্ত তিনজনের মধ্যে দুজনই ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করায় নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ১ম শ্রেণীতে প্রতারণামূলকভাবে ভর্তিকৃত ছাত্রী শামীমা আকতারের ভর্তি সংক্রান্ত সার্বিক তথ্য পর্যালোচনাপূর্বক দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন পেশ করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়। 

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ও বর্তমানে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মোহা: তোজাম্মেল হোসেনকে আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো: বদিউজ্জামানকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য হলেন- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ও একজন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট তারা দুইজনই খুবই ব্যস্ত মানুষ এবং তারা দুইজনই দূরে অবস্থান করেন। তাই তাদেরকে দিয়ে তদন্তের কাজ ধীরগতির হতে পারে। ফলে জালিয়াতরা প্রশ্রয় পেতে পারে। এর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কোন সিনিয়র অধ্যাপক দিয়ে এটি করলে ভালো হতো।

এ বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে তদন্ত কমিটির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তদন্ত কমিটির চিঠি আমি পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনে দীর্ঘসূত্রিতা হবে না। আমরা ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিব।

তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি ইতিবাচক ভাবে দেখছি না। এই কমিটির মাধ্যমে কোনোভাবেই সাত দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করা সম্ভব না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি, এর মধ্যে তাদেরকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২৪১০১০৪ রোলধারী শিক্ষার্থী শামিমা আক্তার জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পরে রেজাল্ট তৈরি করতে গিয়ে প্রশাসন প্রদত্ত সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীর রোল নাম্বার না থাকায় বিষয়টি পরীক্ষা কমিটির নজরে আসে। গত ১১ জুলাই বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে পরিক্ষা কমিটি। পরে বিষয়টি বিভাগীয় সভাপতিকে জানালে একইদিনে জরুরি মিটিং ডাকা হয়। উক্ত জরুরি সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি সংক্রান্ত কোনো নথি একাডেমিক শাখায় না পাওয়ায় তার পরিক্ষা বাতিললের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া বিভাগের সংশ্লিষ্ট স্টাফদের আরো সতর্কতার সহিত দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়।

Link copied!