বৃহস্পতিবার ৩০, জুলাই ২০২৬

বৃহস্পতিবার ৩০, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

খুবিতে আন্দোলনে অচলাবস্থা নিয়ে কাল জরুরি সিন্ডিকেট সভা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্পিতা

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন হয়রানি এবং বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামীকাল জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান।

গত ২২ জুলাই রাতে বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের সময় ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানকে হাতেনাতে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পরদিন সকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। একই দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিক বৈঠক করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা। যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে দ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা। পাশাপাশি সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন ২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এরই মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হলের ভেতরে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অপরাজিতা ও বিজয় ’২৪ ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ক্যান্টিন পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

অন্যদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিষয়ে রিভিউ আবেদন পেলে পুনঃতদন্তের আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান দুটি তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রশাসনের এসব পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের কিছু তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি বহাল রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘টু টু’ ফেসবুক পেজে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকবে।”

চলমান অচলাবস্থার মধ্যে আগামীকালের জরুরি সিন্ডিকেট সভাকে পরিস্থিতি উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় উদ্ভূত সংকট নিরসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Link copied!