জাবিপ্রবি থেকে মোঃ জসিম উদ্দিন
প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
শুক্রবার ০৩, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি-২০২৬ আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাস ও আন্তরিকতায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন পথচলার সূচনাকে কেন্দ্র করে দিনটি শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন। তিনি গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, “গ্র্যাজুয়েশন জীবনের শেষ গন্তব্য নয়; এটি নতুন দায়িত্ব, নতুন সম্ভাবনা এবং আরও বড় চ্যালেঞ্জের সূচনা। প্রযুক্তির এই পরিবর্তনশীল সময়ে দক্ষতা, সততা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করতে হবে। আজকের এই অর্জন ভবিষ্যতের পথচলায় আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।”
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন অর্জন, সংগ্রাম ও স্মৃতিময় মুহূর্ত তুলে ধরা হয়। বিভাগের শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে গ্র্যাজুয়েটদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। এ সময় বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং তাদের সফল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।
স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফটোসেশন এবং সহপাঠীদের সঙ্গে শেষবারের মতো আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। চার বছরের বন্ধুত্ব, পরিশ্রম ও স্বপ্নের স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে আনন্দ ও আবেগের এক অনন্য আবহ সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মতে, গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি-২০২৬ ছিল শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অর্জন, স্মৃতি এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নকে একসঙ্গে উদযাপনের একটি স্মরণীয় উপলক্ষ। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও অর্থবহ করে তুলেছে।