প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
রাজন হোসেন তৌফিক
কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রবেশপত্র হাতে না পেয়ে এইচএসি পরীক্ষার প্রথম দিন চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ শিক্ষার্থী। শেষ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে তারা পরীক্ষায় বসার সুযোগ পান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশপত্র ছাড়া ঢুকতে চাইলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আটকে দেন। পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে কেন্দ্রের বাইরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ৯ জন।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। এরপর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বোর্ডের বিশেষ অনুমতি নিয়ে বিলম্বিত সময়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মানবিক বিভাগের শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীল এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তারসহ মোট ৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেরিতে পরীক্ষায় বসায় মানসিক চাপে ছিলাম। কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দিলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না।
কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল দায় স্বীকার করে বলেন, “প্রবেশপত্র না আসার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ ঘটনায় কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেব এবং আমার দায় রয়েছে।
অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এটি স্পষ্টতই দায়িত্বহীনতার ফল। জেলা প্রশাসন, বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পেরেছেন।”
পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।
