প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:১০ এএম
প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়ের অর্থ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে নতুন এক ব্যাংকিং সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘অনাবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ নামে এই নতুন হিসাবের মাধ্যমে প্রবাসী আয়কে বিনিয়োগের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার এ–সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, তফসিলি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এই হিসাব পরিচালিত হবে। এর ফলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে প্রবাসীরা সহজেই এ ধরনের হিসাব খুলতে পারবেন।
নতুন এই ব্যবস্থায় হিসাবটি সেভিংস, কারেন্ট অথবা ফিক্সড ডিপোজিট—যেকোনো ধরনের হতে পারবে। একই সঙ্গে অন্য অনাবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ বা মুনাফা, অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়, শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের ফেরতসহ বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত অনুমোদিত অন্যান্য অর্থও এতে জমা রাখা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘এই হিসাবে জমা রাখা মূল অর্থ এবং অর্জিত সুদ বা মুনাফা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাবাসনযোগ্য।’ অর্থাৎ, প্রবাসীরা চাইলে তাঁদের মূলধন ও লাভ পুরোপুরি বিদেশে ফেরত নিতে পারবেন।
এ ছাড়া এই হিসাবের অর্থ দেশের ভেতরেও বহুমুখীভাবে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। স্থানীয় পরিশোধ, অন্য অনাবাসী হিসাবগুলোতে অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর এবং বাংলাদেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এই হিসাবের জমা অর্থ ব্যবহার করে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো বিশেষায়িত অঞ্চলের টাইপ-এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ দিতে পারবে। তবে এ ঋণ কেবল অনুমোদিত চলতি ব্যয়—যেমন বেতন, মজুরি এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই জমা অর্থ জামানত হিসেবে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশি কিংবা তাঁদের মনোনীত ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত অথবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে অপ্রত্যাবাসনযোগ্য বিনিয়োগ কিংবা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রেও এই অর্থ ব্যবহারযোগ্য হবে।
তবে কিছু খাতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। কৃষি, প্ল্যান্টেশন এবং আবাসন উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের জন্য এই ঋণ ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই হিসাব সুবিধা প্রবাসী আয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি প্রবাসীদের জন্য দেশীয় বিনিয়োগে অংশগ্রহণের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
