শুক্রবার ১৯, জুন ২০২৬

শুক্রবার ১৯, জুন ২০২৬ -- : -- --

এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে ৪১ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২০ পিএম

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। আগের বছর এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ।

বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার সমান।

চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালের পর ২০২৫ সালেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা হয়েছে। গত এক দশকের হিসাবেও এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমানতের রেকর্ড।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে থাকা সব অর্থকে অবৈধ বা পাচার করা অর্থ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকও বৈধ উপায়ে সেখানে অর্থ সংরক্ষণ করে থাকে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় অর্থ জমা রাখেন।

অর্থ পাচার নিয়ে নতুন আলোচনা

এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, ‘আশা করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ থেকে অর্থ পাচার কমবে। কিন্তু সুইস ব্যাংকের এই হিসাব প্রমাণ করে– অর্থ পাচার কমেনি। এটি অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো ফল বয়ে আনছে না। আমার মতে, সুইস ব্যাংক ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অর্থ পাচার হয়।’

তিনি আরও মনে করেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নতুন করে অর্থ পাচার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

সব অর্থই পাচার নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুইস ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের একটি অংশ বৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমানতের অন্তর্ভুক্ত।

তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশত্যাগ করা সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের সম্পদ স্থানান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি অতীতে বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

একসময় সুইস ব্যাংকগুলো গোপনীয়তার জন্য পরিচিত থাকলেও আন্তর্জাতিক আর্থিক তথ্য বিনিময় চুক্তির কারণে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। ফলে অবৈধ অর্থ লুকিয়ে রাখার পুরোনো চিত্রও ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।

Link copied!