বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬ -- : -- --

খুবিতে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের পুত্তলিকা দাহ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্পিতা

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগে জুতা নিক্ষেপ ও পুত্তলিকা দহন কর্মসূচি। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং এ বিষয়ে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও পুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

সমাবেশ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল— “দফা এক দাবি এক, রেজাউলের বহিষ্কার”, “রেজাউলের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে”, “রেজাউলের চামড়া তুলে নিব আমরা”, “যৌন হেনস্তাকারীর ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবেনা”, “রেজাউলের বডিতে আগুন দেব এক সাথে” এবং “জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো”।

সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতীকী পুত্তলিকা দহন করেন।

এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দে বলেন, “অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও আমরা আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইনা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না।আমরা তাকে আর আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে চাইনা।আমরা তার স্থায়ী বহিস্কার চাই।”

একই বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর বিন মুহিত বলেন, “একজন শিক্ষক তার অবস্থান ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা এই শিক্ষকের স্থায়ী বহিস্কার চাই।”

সম্প্রতি এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে জানান।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ড. রেজাউল ইসলাম দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, তাঁর মোবাইল ফোন ফেব্রুয়ারিতে হারিয়ে যায়। এরপর থেকেই তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই সময়ের পরও তাঁর সঙ্গে একাধিকবার একাডেমিক বিষয়ে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি তিনি নিজের প্রোফাইল থেকে গবেষণাসংক্রান্ত সংবাদও শেয়ার করেছেন। এছাড়া সাম্প্রতিক ঘটনার পর বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন।

Link copied!