শুক্রবার ১৯, জুন ২০২৬

শুক্রবার ১৯, জুন ২০২৬ -- : -- --

প্রথম ম্যাচেই তারকাদের ঝলক, মেসি সেরা; হতাশ রোনালদো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম

প্রথম ম্যাচেই তারকাদের ঝলক, মেসি সেরা; হতাশ রোনালদো

বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষটাই যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শুরুটাও অনেক সময় গড়ে দেয় পুরো আসরের মানসিক ছন্দ। বিশেষ করে দীর্ঘ প্রতিযোগিতার শুরুতে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস হয়ে ওঠে। তাই দলীয় ফলাফলের পাশাপাশি নজর থাকে বড় তারকাদের দিকেও।

২০২৬ FIFA World Cup 2026–এর প্রথম রাউন্ড শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষ তারকা। পারফরম্যান্সের বিচারে যদি ‘মার্কশিট’ তৈরি করা হয়, তবে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম Lionel Messi। অন্যদিকে ভালো নম্বরের দৌড়ে আছেন Kylian Mbappé, Harry Kane এবং Erling Haaland। তবে হতাশার তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম Cristiano Ronaldo

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেসির গোলের সম্ভাবনা অনুমান করা কঠিন ছিল না। কিন্তু আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিনি যা করলেন, তা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। আগের পাঁচটি বিশ্বকাপে যে হ্যাটট্রিকের দেখা পাননি, সেটিই পূরণ করলেন এবার। এই কীর্তির মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগে মেসি বল স্পর্শ করেছেন ৫৭ বার, নিখুঁত পাস দিয়েছেন ধারাবাহিকভাবে, দুটি বড় সুযোগ তৈরি করেছেন এবং ছয়টি শট নিয়েছেন, যার চারটি ছিল লক্ষ্যভেদী। বয়স যে কেবল সংখ্যা—এ কথারই যেন আরেক প্রমাণ দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

অন্যদিকে, রোনালদোর শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে Portugal national football team–এর ১–১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে তাঁকে কার্যত নিষ্প্রভ দেখা গেছে। ম্যাচে তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। দুটি সহজ সুযোগও হাতছাড়া করেন। ফলে ম্যাচ শেষে সমালোচনার তীর ছুটেছে তাঁর দিকেই।

এদিকে ফ্রান্সের হয়ে সেনেগালের বিপক্ষে দুর্দান্ত জোড়া গোল করেছেন এমবাপ্পে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বক্সের বাইরে থেকে তাঁর করা গোলটি ছিল দৃষ্টিনন্দন। পুরো ম্যাচে গতি, নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণাত্মক উপস্থিতিতে তিনি ছিলেন ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা।

এমবাপ্পের সঙ্গে আক্রমণভাগে উজ্জ্বল ছিলেন Ousmane Dembélé। গোল না পেলেও ফাইনাল থার্ডে ৯টি কার্যকর পাস দিয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন তিনি।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা Norway national football team–এর হয়ে প্রথম ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন হলান্ড। ইরাকের বিপক্ষে ৪–১ গোলের জয়ে তাঁর জোড়া গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়। চারটি শটের দুটি ছিল অন-টার্গেট, দুটিই জালে জড়ান তিনি।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেইনও শুরুটা করেছেন জোড়া গোল দিয়ে। তবে তাঁর অবদান শুধু গোলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিটে আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও সমানভাবে কাজ করেছেন। ট্যাকল, ব্লক, ক্লিয়ারেন্স ও রিকভারিতে অংশ নিয়ে দলের ভারসাম্য বজায় রেখেছেন তিনি।

Brazil national football team প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে জয় না পেলেও ড্রয়ের ম্যাচে উজ্জ্বল ছিলেন Vinícius Júnior। পিছিয়ে পড়ার পর তাঁর গোলেই সমতায় ফেরে দল। ম্যাচে ৫৩ বার বল স্পর্শ করে চারটি নিখুঁত লং বল এবং প্রতিপক্ষের বক্সে পাঁচবার বল ছুঁয়ে ব্রাজিলের আক্রমণে প্রাণসঞ্চার করেন তিনি।

প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে কেউ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দিয়েছেন, কেউ আবার শুরুতেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে বিশ্বকাপের আসল গল্প এখনো বাকি। দীর্ঘ এই যাত্রায় প্রতিটি ম্যাচই বদলে দিতে পারে তারকাদের অবস্থান, আর নতুন করে লিখতে পারে ইতিহাস।

Link copied!