শুক্রবার ১২, জুন ২০২৬

শুক্রবার ১২, জুন ২০২৬ -- : -- --

‘আমি মূল্যস্ফীতিকে ভালোবাসি’— ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি এটি ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত ছিল। জানেন আমি আসলে কী ভালোবাসি? আমি মূল্যস্ফীতিকে ভালোবাসি।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই এমন সময়ে এ ধরনের বক্তব্যকে বিতর্কিত বলে আখ্যা দিয়েছেন, যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে চলেছে।

মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিল মাসে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের দামে, যা শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে দেশটির তেল সরবরাহে প্রভাব পড়েছে এবং এর কারণে তেলের দামে সামান্য পরিবর্তন এসেছে।’ তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম নিচে নেমে আসবে।’

এদিকে সমালোচনা বাড়তে থাকলে পরে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার মন্তব্যের অর্থ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার দাবি, তিনি মূল্যস্ফীতিকে সমর্থন করেননি; বরং ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার তুলনায় কম রয়েছে—এ বিষয়টিই তিনি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, মে মাস নিয়ে টানা তৃতীয় মাসের মতো যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এর ফলে দেশটির সাধারণ পরিবারগুলো খাদ্য, জ্বালানি ও দৈনন্দিন সেবাখাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপের মুখে পড়ছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ জ্বালানি ব্যয় এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি বিমান ভাড়া, ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাসেবা, বিনোদন এবং যোগাযোগ খাতেও খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

Link copied!