শনিবার ০৯, মে ২০২৬

শনিবার ০৯, মে ২০২৬ -- : -- --

ছাতকে খামারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ১৫০০ মুরগির মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

এক রাতেই শেষ হুশিয়ার আলীর স্বপ্ন

সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি পোল্ট্রি খামারে বিষ প্রয়োগে বিপুল সংখ্যক মোরগ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে খামার মালিকের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী খামার মালিক মোঃ হুশিয়ার আলী ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ছাতক পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হুশিয়ার আলী তার বসতঘরের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ২০০০টি বাউন কক জাতের মোরগ নিয়ে খামার পরিচালনা করছিলেন। গত ৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে খামার পরিদর্শনের পর তিনি ঘুমাতে যান। পরদিন সকাল ৬টার দিকে খামারে গিয়ে তিনি দেখতে পান প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০টি মোরগ মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

তার দাবি অনুযায়ী, এতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তার শ্বশুর মোঃ আবুল মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে খামারে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত মোঃ আবুল মিয়ার স্ত্রী ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ঘটনাটি সত্য হতে পারে বলে আমি মনে করি।” তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের জামাইকে এই জায়গার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” একই ধরনের বক্তব্য তার ছেলে ও মেয়েও প্রদান করেন।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা গেলে অভিযুক্ত মোঃ আবুল মিয়াকে পাওয়া যায়নি। তার ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিলন মিয়া বলেন, “খামারটি প্রাথমিকভাবে পরিদর্শনে কোনো বাহ্যিক রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করে ১২০০ থেকে ১৫০০ মোরগ মারা যাওয়া অবশ্যই উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ল্যাবে পাঠানো হবে।”

ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ছাতক উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলব। সঠিকভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

এদিকে পুরো ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।

Link copied!