প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
কিশোরগঞ্জের ইসলামপাড়া গ্রামের এক সময়কার রিকশাচালকের ছেলে আজমীর আলম (৩৫) প্রতারণার মাধ্যমে অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে ‘কবিরাজ’ পরিচয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করে তিনি একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র গড়ে তোলেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আজমীর আলমের স্ত্রী তানিয়া আক্তারের নামে থাকা একটি ব্যাংক হিসাবেই অন্তত ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা জমা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, আজমীর আলম প্রথমে কবিরাজ পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নানা ধরনের প্রতারণা করতেন। তার নেতৃত্বাধীন চক্রের সদস্যদের আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো এবং নির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হতো।
তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটি মোবাইল মিনিট ও ইন্টারনেট প্যাক অফারের প্রলোভন, কবিরাজি চিকিৎসার নামে ভুয়া প্রচারণা এবং লটারিতে পুরস্কার জেতার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত। এ কাজে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ ব্যবহার করত। পরে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলে প্রতারণা সম্পন্ন করা হতো।
অভিযোগ রয়েছে, চক্রটির সদস্যরা মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত। এছাড়া অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের চক্রে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে।
বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) চক্রটির ওপর নজরদারি শুরু করে। দীর্ঘদিন মনিটরিংয়ের পর চক্রটির মূল হোতা আজমীর আলমসহ সংশ্লিষ্টদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “চক্রটির আর্থিক লেনদেন, সদস্যদের কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত প্রতারণামূলক প্রচারণার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
