নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
রবিবার ০৩, মে ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শান্তি নিকেতন, প্রশান্তি পার্ক ও গ্যারেজ এলাকা—শিক্ষার্থীদের খাবার ও আড্ডার অন্যতম কেন্দ্র। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় ক্লাসের ফাঁকে এসব স্থানে ভিড় জমে শত শত শিক্ষার্থীর। কিন্তু এই ব্যস্ততম স্থানগুলোতেই নেই নিরাপদ পানীয় জলের কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক শিক্ষার্থী লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত পানি পান করছেন, আবার অনেকে পানি না খেয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় সুপেয় পানির সংকট থাকলেও তা সমাধানে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং টং দোকানগুলোতে যে পানি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি নিয়েও রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন—সেই পানি দিয়েই তৈরি হচ্ছে খাবার, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, সমস্যাটি নতুন নয়; বহুদিন ধরেই তারা এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। তবে এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে তাদের মধ্যে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “শান্তি নিকেতনে আমরা সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায় খাওয়া-দাওয়া করি। কিন্তু খাবার খেয়ে পানি না পান করেই চলে যেতে হয়, কারণ এখানে বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই।”
আরেক শিক্ষার্থী জানান, “রান্নাবান্নায় কী ধরনের পানি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। আশপাশে ভালো পানির উৎস নেই, অথচ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”
পানিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত এক শিক্ষার্থী বলেন, “শান্তি নিকেতনের পানি খেয়ে আমি তিনবার জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছি। আমি চাই না আর কেউ আমার মতো অসুস্থ হোক। দ্রুত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা জরুরি।”
আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, “এখানে যে পানির লাইন আছে, সেটি লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত। সেই পানি দিয়েই দোকানগুলোতে খাবার তৈরি ও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অস্বাস্থ্যকর।”
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের এত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া কি প্রশাসনিক অবহেলারই বহিঃপ্রকাশ? শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেন নেওয়া হয়নি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ?
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রাক্কলন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ পানির লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি খাবারের মান যাচাইয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতর ও বাইরের দোকানগুলোতেও নিরাপদ পানি ও খাদ্যমান নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হবে।”
তবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন—দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান কি এবার বাস্তবায়ন হবে, নাকি আগের মতোই আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে? কারণ প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যেখানে জড়ো হন, সেখানে ন্যূনতম সুপেয় পানির নিশ্চয়তা না থাকা শুধু ভোগান্তি নয়, বরং একটি বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়।