প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
কিশোরগঞ্জে জেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন পদবঞ্চিত একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ এনে তাকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার (৪ মে) দুপুরে জেলা শহরের ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গৌরাঙ্গ বাজার মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নতুন কমিটি বাতিলের দাবি জানান।
জানা গেছে, গত ২ মে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার পাঁচ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। এর পরপরই একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১৫ মে ঘোষিত কমিটি ২০ দিনের মাথায় স্থগিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন কমিটি ঘোষণায় আগের সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুর রহমান ওয়াকিউরকে বাদ দেওয়ায় দলের ভেতরে বিতর্ক তৈরি হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের প্রভাবেই ওয়াকিউরকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদ বলেন, “আজ এখানে দাঁড়িয়ে আমাদের কথা বলার কথা ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দলের ভেতর যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে- তার বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত দিনের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত—প্রতিটি কর্মসূচিতে আমরা রেদোয়ানুর রহমান ওয়াকিউর ভাইয়ের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জের রাজপথ দখলে রেখেছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১১ মাস পর ওয়াকিউর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের জন্য আমাদের ত্যাগ থাকা সত্ত্বেও কেন আমাদের ওপর এই অন্যায় করা হলো এর সদুত্তর চাই। আমরা এই বঞ্চনার কারণ জানতে চাই।”
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের সমালোচনা করে তিনি বলেন,“রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। কিশোরগঞ্জের ছাত্র-জনতা আজ শরীফুল আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছে। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ বা ময়মনসিংহ—যেখানেই আন্দোলন হয়েছে আমরা সবসময় সক্রিয় ছিলাম। রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমেই আমরা আমাদের দাবি আদায় করে নেব।”
বিক্ষোভকারীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,“আপনি বলেছিলেন, মিছিলের শেষ প্রান্তে থাকা কর্মীটিও যেন যথাযথ মূল্যায়ন পায়। কিন্তু বর্তমানে আমরা তার বিপরীত দেখতে পাচ্ছি। যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সাথে সখ্যতা রেখে চলেছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই এবং যারা কোনোদিন রাজপথের মিছিলে ছিল না—তারাই আজ ছাত্রদলের নেতৃত্বে চলে এসেছে। এই পকেট কমিটি ও সিন্ডিকেটকে আমরা কিশোরগঞ্জের মাটি থেকে প্রত্যাখ্যান করছি।”
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে নতুন কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।
