রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬

রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

খালেদা জিয়ার ছবি ও জাতীয় পতাকা অবমাননায় ইবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মচারীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র ছবি অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মচারীরা। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। একইসঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেয় ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জিয়া পরিষদ, শাখা ছাত্রদল এবং বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা সমিতির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. নজিবুল হক, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মিজানূর রহমান, সিনিয়র অধ্যাপক ড. আলীনূর রহমান, জিয়া পরিষদের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং ইউট্যাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

এছাড়া অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় পতাকাকে পদদলিত করা এবং দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি পরিকল্পিত ও ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড। তারা অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন আন্দোলনের নামে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

তারা আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা ও শিক্ষার্থী সাজিদের হত্যার বিচারের দাবিতে চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সময় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এসময় জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে থাকা কর্মকর্তারা যদি এমন ঘটনা দেখেও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের দায়িত্বে থাকার দরকার নেই।”

ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, “বর্তমান প্রশাসনের বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”

অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি গত ১৫ তারিখের হলেও প্রশাসন নিজ থেকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়নি। এতে বোঝা যায় তারা ব্যার্থ প্রশাসন। আমরা অতীতে দেখেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করার নজির কিন্তু বাংলাদেশে রয়েছে। সুতরাং এই নজির গত ১৫ তারিখে হয়েছে তা নয়, এটি অতীতেও হয়েছে এবং আমার ধারণা ভবিষ্যতে হয়তো একটি চক্র সেটি করার চেষ্টা করতে পারে। এছাড়া ক্যাম্পাসের পূর্বের দুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অতিদ্রুত সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি, পাশাপাশি জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষিকা রুনা ও শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচার এবং জাতীয় পতাকা ও খালেদা জিয়ার ছবি অবমাননার ঘটনায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

এ ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়া এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শহিদুল ইসলামকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরিফ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাবুল আলম এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন তারা। এসময় ভবনের ভেতরে থাকা এক কর্মচারীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্দোলনকারীরা ফটকে ঝুলানো বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।

Link copied!