প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ হল ফি জমাদান সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেনি গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) পরীক্ষা দিতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী ওই দিন দুপুরে গণিত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ, প্রথম সেমিস্টারের প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার ও ভর্তি ফি পরিশোধ করে পরীক্ষার হলে প্রবেশও করেন। তবে পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেন।
পরে জানা যায়, হল ফি পরিশোধ না করায় প্রভোস্টের অনুমতি মেলেনি। এতে প্রস্তুতি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে পড়েন।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গত ৩০ মার্চ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ফর্ম ফি এবং ৬ এপ্রিল ভর্তি ফি জমা দেন। কিন্তু ১২ এপ্রিল বিজয়–২৪ হল থেকে নতুন হল ফি নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও পরীক্ষার আগে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। হঠাৎ পরীক্ষার দিন হল ফি’র বিষয়টি সামনে এনে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীরা হল ফি জমা দিতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত জনতা ব্যাংক পিএলসি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা তারা পায়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়েও ফি জমা দিতে পারেননি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইকরাম মাহমুদ প্রধান বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল হল প্রভোস্ট স্যার হল ফি ছাড়া সাক্ষর করবেন না। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকে গেলে তারা জানায় এমন কোনো নোটিশ তারা পায়নি। অথচ পরীক্ষা শুরুর মাত্র ৫ মিনিট আগে আমাদের জানানো হয় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এত কষ্ট করে প্রস্তুতি নিয়ে এসে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।’
আরেক শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ সম্রাট বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলাম। এমন সিদ্ধান্তে আমাদের একাডেমিক ক্ষতি হলো। কবে পরীক্ষা হবে বা কীভাবে ফি জমা দিতে হবে—এ নিয়েও স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।’
এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের জাবিপ্রবি শাখা ব্যবস্থাপক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘হল ফি জমা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা হল কর্তৃপক্ষ থেকে আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি।
পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক তোজাম হোসেন বলেন, ‘ফর্ম ফিলাপ সম্পূর্ণ না হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ফর্ম পূরণ ছাড়া পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়, এতে পরবর্তীতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’
অন্যদিকে বিজয়–২৪ হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরহাদ আলী বলেন, ‘এটি মূলত রেজিস্ট্রার দপ্তর ও বিভাগের বিষয়। হল ফি ছাড়া অনুমোদন দেওয়া নিয়মসিদ্ধ নয়। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় বিভাগই দেখবে।’
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুর হোসেন চৌধুরী মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
