নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৯ এএম
মঙ্গলবার ২১, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
“কে জানিত মানুষ অতীতকে বর্তমানে বন্দী করিবে? অতল-স্পর্শ কালসমুদ্রের ওপর কেবল এক-একখানি বই দিয়া সাঁকো বাঁধিয়া দিবে?”রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর এই চিরন্তন উক্তির মতোই বই সময়ের সেতুবন্ধন, জ্ঞান ও অনুভূতির অনিঃশেষ ভাণ্ডার। আর সেই বইকে ঘিরেই গড়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ-বইমেলা, যেখানে জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মানবিকতার মিলন ঘটে একসঙ্গে।
এই আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)-তে শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় আসর ‘বই-শাখী মেলা’। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাহিত্য ও সহযোগী ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
১২ থেকে ১৬ এপ্রিল প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে চলছে এই বইমেলা। মেলায় বইপ্রেমীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, বিভিন্ন ঘরানার বইয়ের সমাহার, নতুন বইয়ের মলাটের গন্ধ এবং সাহিত্যকেন্দ্রিক আলোচনা এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছে।
পাঠকদের মতে, বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার স্থান নয়-এটি আমাদের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক, যেখানে পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের এক মিলনমেলা ঘটে। নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করা, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে এই আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম।
নোবিপ্রবির ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী সেলিনা জিন্নাত বলেন, “গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রাণবন্ত বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নতুন-পুরাতন বইয়ের সমাহার ও উৎসবমুখর পরিবেশ বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।” তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে মানুষ বই থেকে কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছে, অথচ বই পড়া কগনিটিভ বিকাশ, মনোযোগ ও কল্পনাশক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সৈয়দ মুজতবা আলী-এর উক্তি তুলে ধরে বলেন, “বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।”
আরেক শিক্ষার্থী পারভেজ বলেন, “বর্তমান সময়ে আমরা প্রযুক্তির মধ্যে বেশি ডুবে থাকি, ফলে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। কিন্তু এই ধরনের বইমেলা আমাদের আবার বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে। এখানে বই হাতে নেওয়া, পছন্দের বই খুঁজে পাওয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করার মধ্যে এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়।”
এই আয়োজন সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “নোবিপ্রবিতে এই বইমেলার আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার সুযোগ পাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, বৈচিত্র্যময় বই পাঠ শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে সহায়ক এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে তাদের দক্ষ করে তুলবে।
বৈশাখের আবহে আয়োজিত এই বইমেলা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে-এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।